কবুতরের ক্যাঙ্কার রোগ

কবুতরের পিজিয়ন পক্সের কারণ,লক্ষণ,প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সহ সকল তথ্য

অন্যান্য

Pigeon_pox

কবুতরের পক্স রোগের জন্য কবুতর সেক্টরে যে পরিমান ক্ষতি হয় তা অন্য রোগের ক্ষেত্রে হয় না।কবুতর খামারীদের কাছে এই রোগটি একটি অতি পরিচিত রোগ। প্রায়ই কোন না কোন সময় তাদের শখের পায়রা গুলোকে এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। যারা কবুতরের চিকিৎসা করেন তাঁদের ও এই রোগ সম্বন্ধে জানা থাকাটা জরুরি। এটি সবচাইতে বেশি ক্ষতি করে থাকে বাচ্চা কবুতরের ক্ষেত্রে।

পিজিয়ন_পক্স

রোগের_কারণঃ ভাইরাস। অন্তত ১৬ টি বিভিন্ন প্রজাতির Avipoxviruses আছে।

রোগের_ধরণঃ এটি cutaneous বা ডিপথেরিক আকারে হতে পারে।

বিস্তৃতিঃ পিজিয়ন পক্স একটি বিশ্বব্যাপী রোগ।

জীবানূরধারকও_বাহকঃ

মূলত মশা,বিভিন্ন কীটপতঙ্গ,অসুস্থ পাখি বা ফোমাইটস।

সময়ঃ শীতে প্রকোপ বেশী হলেও প্রায় সব মৌসুমে কম বেশী দেখা যায়।

পিজিয়নপক্সেরলক্ষণঃ মূলত পশমবিহীন অংশ গুলোতেই লক্ষণ দেখা যায়।

১. নাকের চারপাশে গোটা হওয়া।
২. নাভি সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এই গোটা দেখা দিতে পারে।
৩. মাঝে মাঝে কবুতরের মুখের মধ্যে ও খাদ্যনালী তেও পক্স গোটা দেখা যেতেপারে। যাকে Wet pox বা ডিপথেরিক লিশন বলে।

পিজিয়নপক্সেরচিকিৎসাঃ

১. পটাশ
২. খাবার চুন
৩. Bactrocin 2%(Topical ointment)
৪. দারুচিনি গুরা

প্রথম_পদ্ধতিঃ

প্রথমে ১ এবং ২ একসাথে মিশিয়ে পেষ্ট করে নিতে হবে।
তারপর আক্রান্ত স্থানের চামড়া আলতো করে তুলে ফেলতে এরপর ঐ স্থানে কটন বাডের সাহায্যে পেস্ট ভালভাবে লাগিয়ে দিতে হবে। দিনে ২ বার।
সেরে না ওঠা পর্যন্ত লাগাতে হবে (মিনিমাম ৫-৭ দিন।)
পেস্ট লাগানোর পর কবুতরটিকে ৫-১০ মিনিট অালোতে রাখতে হবে।

দ্বিতীয়_পদ্ধতিঃ

যদি মুখে বা চোখের আশে পাশে হয় সেক্ষেত্রে পটাশ ব্যবহার না করা ই উত্তম। কারণ, কোনভাবে পটাশ চোখের ভিতরে চলে গেলে চোখটি নষ্ট হয়ে যাবে।
এক্ষেত্রে Bactrocin ointment টি বেশ কার্যকরী। আগের মত করে এটিও প্রথমে হালকা করে আক্রান্ত স্থানের চামড়া তুলে তারপর কটনবাড দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে।

এটি শুধুমাএ চোখে বা মুখে নয় অন্য যেকোন জায়গায় পক্সের গুটি থাকলেও সেখানে পটাশ এর পরিবর্তে ব্যবহার করা যাবে।

তৃতীয়_পদ্ধতিঃ

এটি কেবল wet pox বা ডিপথেরিক লিশনের এর জন্য প্রযোজ্য
দারুচিনি গুঁড়ো পানির সাথে মিশিয়ে এটা ডাবলি আকার দিবেন। উপরোক্ত চিকিৎসার পাশাপাশি দারুচিনি গুঁড়োর তৈরি বল খাইয়ে দিবেন প্রতিদিন একটা করে। এতে করে ভিতরে থাকা পক্স এর জীবানু নষ্ট করে দিবে। এবং wet pox নিরাময়ে সাহায্য করবে।

প্রতিরোধঃ

পিজিয়নপক্সভ্যাকসিন

প্রয়োগের_বয়সঃ ৩-৭ দিন বয়সী কবুতর

ব্যবহার_বিধিঃ

১) প্রথমে টিকার ভায়ালে ৩ মিলি পরিস্রুত পানি নিয়ে ভাল করে মিশাতে হবে।এই টিকা প্রয়োগের জন্য বিশেষ ধরনের সুঁচ (Biforked Prickung neeedle) বা বিকল্প হিসাবে ইঞ্জেকশন সিরিঞ্জের সূচের অর্ধাংশ ডুবিয়ে কবুতরের পাখার নীচে দিকে ত্রিকোনাকৃতি মাংস বিহীন চামড়ায় একাধিকবার খুঁচিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।

২) এই টিকা একবার (বুস্টার ডোজসহ) প্রয়োগই যথেষ্ট।পুনরায় টিকা প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে না।( যেহেতু, এই টিকা আজীবনের জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।)

সরবরাহঃ

প্রতি ভায়ালে ২০০ মাত্রা টিকা থাকে।

ব্যবস্থাপনাঃ

এ ভাইরাস ঘটিত রোগটি যেহেতু মূলত মশা ও অন্যান্য কীটপতঙ্গের মাধ্যমে ছড়ায় তাই কবুতরে খামার সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

এবংঅবশ্যইকবুতরেরলফটেমশারীব্যবহারকরতে_হবে

এরপর ও যদি মশার উপদ্রব না কমে তাহলে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে।যেটা অনেক খামারী ই ব্যবহার করে থাকেন।

১.#নিমপাতা_ব্যবহারঃ
শুকনো নিমপাতা পোড়ানোর পর যেই ধোয়া হয় তা খামারের আশে পাশে দিলে মশার উপদ্রব অনেক কমে যায়।

২.#রসুনের_ব্যবহার
কয়েকটি রসুনের কোয়া থেতলে তা পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি লফ্টের চারপাশে স্প্রে করে দিলে মশা উপদ্রব থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

৩.#ন্যাপথালিনএরব্যবহারঃ
খামারের আশেপাশে কিছু ন্যাপথালিনের গুটি কিনারা তে দিয়ে রাখলে মশা উপদ্রব কম হয়।
সবচাইতে উৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে সন্ধ্যা হওয়ার আগ মুহূর্তেই কবুতরের লফট ভাল করে মশারী দিয়ে ডেকে দিতে হবে।

মুহাম্মাদ রিদুয়ান পাশা স্যারের উৎসাহে নিজস্ব স্বল্প সময়ের কবুতর পালার অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন কবুতর খামারীদের সাথে কথা বলে ফিল্ড লেভেলে সবচাইতে বেশী কার্যকরী পদ্ধতি গুলোর আলোকেই পিজিয়ন পক্স সম্পর্কে কিছু লিখা।
গ্রুপে অনেক স্যার/ম্যাডাম,ও সিনিয়র ভাই/আপুরা আছেন। তারা এই বিষয়ে আশা করি আরো ভাল বলতে পারবেন।
যদি আমার লিখাতে কোথাও কোন ভুল-ভ্রান্তি থেকে থাকে দয়া করে ছোট ভাই হিসেবে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং ভুল গুলো ধরিয়ে দিবেন।
ধন্যবাদ।

আমিনুল ইসলাম আলামিন
ইন্টার্ন ডাক্তার, সিভাসু।

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *