কবুতরের ভ্যাকসিন শিডিউল

কবুতরের ভ্যাকসিন শিডিউল ও ভ্যাকসিনের বিস্তারিত তথ্য

কবুতর পালন কবুতর ভ্যাকসিন শিডিউল প্রাণিসম্পদ

প্রিয় কবুতর প্রেমী ভাইয়েরা, অনেক সময় আপনার কবুতরের ভ্যাকসিন শিডিউল খুঁজে থাকেন। কিন্তু পরিপাটি ও যুক্তিযুক্ত, সাজানো গোছানো বিস্তারিত তথ্যবহুল কবুতরের ভ্যাকসিন তালিকা খুঁজে পান না। তাই আমার আজকের লেখা টা আপনার জন্যই।

ভ্যাকসিন কি?

ভ্যাকসিন হচ্ছে রোগ প্রতিরোধকারী। যা যেই রোগের বিরুদ্ধে দেয়া হয়, সেই রোগের বিরুদ্ধে শরীরে এন্টিবডি তৈরি মাধ্যমে শরীরে ঐ রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।

কবুতরে বেশ কিছু রোগবালাই দেখা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হচ্ছে কবুতরের রাণীক্ষেত রোগ। আমরা জানি যে রাণীক্ষেত একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ। আর ভাইরাল রোগের কার্যকরী তেমন চিকিৎসা না থাকায় প্রচুর পরিমানে শখের কবুতর এই রাণীক্ষেত রোগে মারা যায়। এছাড়াও কবুতরের আরেকটি কমন ভাইরাল রোগ হচ্ছে পিজিয়ন পক্স রোগ। স্বাভাবিক ভাবে ভাইরাল রোগ হওয়ায় পিজিয়ন পক্স রোগের ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নাই। তবে, পিজিয়ন পক্স হলে কবুতর রাণীক্ষেত রোগের মত এত বেশি মারা যায় না। তবে কবুতরের শরীরে অনেক বেশি ধকল পড়ে,যা কাটিয়ে উঠতে কবুতরের অনেক সময় লাগে। তাই কবুতরকে অবশ্যই রাণীক্ষেত এবং পিজিয়ন পক্স এই দুটি রোগের টিকা বা ভ্যাকসিন দিতে হবে। নিচে কবুতরের ভ্যাকসিন তালিকা বিস্তারিত তুলে ধরছি।

কবুতরের ভ্যাকসিন শিডিউল
কবুতরের ভ্যাকসিন শিডিউল

কবুতরের ভ্যাকসিন শিডিউল

ভ্যাকসিনের নাম১ম ডোজ দেয়ার বয়স২য়/বুস্টার ডোজ দেয়ার বয়সটিকা তৈরির পদ্ধতিটিকার ডোজ ও দেয়ার পদ্ধতি
পিজিয়ন পক্স৩ দিন—–ছোট কাচের ভায়ালে দেয়া হাল্কা গোলাপি রঙ্গের ট্যাবলেট টি ৩ মিলি পানির সাথে মিশাতে হবে। এই তৈরিক্ক্রিত ভ্যাকসিন টি ২০০ টি বাচ্চাকে দেয়া যাবে।একটা সুচ এর মাথা তৈরিকৃত ভ্যাকসিনের মধ্য চুবিয়ে কবুতরের পাখনা মেলে ধরে যে ত্রিকোনাকৃতি মাংস বিহীন চামড়া রয়েছে সেখানে কয়েকবার খুঁচিয়ে দিতে হবে।
রাণীক্ষেত (BCRDV)৭ দিন২১  দিনছোট কাচের ভায়ালে দেয়া সবুজ রঙ্গের ট্যাবলেট টি ৬ মিলি পানির সাথে মিশাতে হবে। এই তৈরিক্ক্রিত ভ্যাকসিন টি ১০০ টি বাচ্চাকে দেয়া যাবে।তৈরিকৃত ভ্যাকসিন প্রতিটি কবুতরের শুধুমাত্র যেকোনো এক চোখে এক ফোঁটা দিয়ে দিতে হবে।
রাণীক্ষেত (RDV)২ মাস বা তার বেশি বয়সী৪ – ৬  মাস পর পরছোট কাচের ভায়ালে দেয়া সবুজ রঙ্গের ট্যাবলেট টি ১০০ মিলি পানির সাথে মিশাতে হবে। এই তৈরিক্ক্রিত ভ্যাকসিন টি ১০০ টি বাচ্চাকে দেয়া যাবে।তৈরিকৃত ভ্যাকসিন প্রতিটি কবুতরের রানের মাংসে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে ১ মিলি করে দিতে হবে।
কবুতরের ভ্যাকসিন শিডিউল

 কবুতরের ভ্যাকসিনের বিস্তারিত বর্ণনাঃ

১। পিজিয়ন পক্স ভ্যাকসিনঃ

১ম ডোজ দেয়ার বয়সঃ ৩ দিন বয়সে পিজিয়ন পক্স ভ্যাকসিন দিতে হবে।

২য়/বুস্টার ডোজ দেয়ার বয়সঃ এই ভ্যাকসিন একবার দিলেই হয়। বুস্টার ডোজ বা ২য় ডোজ দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

টিকা তৈরির পদ্ধতিঃ ছোট কাচের ভায়ালে দেয়া গোলাপি রঙ্গের ট্যাবলেট টি ৩ মিলি পানির সাথে মিশাতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে যে নরমাল পানি সরাসরি মিশানো যাবে না। প্রথমে পানি ভালভাবে ফুটিয়ে নিয়ে তারপরে সেই ফুটানো পানি ঠান্ডা করে  মিশাতে হবে। এই তৈরিকৃত ভ্যাকসিন টি ২০০ টি বাচ্চাকে দেয়া যাবে।

টিকার ডোজ ও দেয়ার পদ্ধতিঃ একটা সুচ এর মাথা তৈরিকৃত ভ্যাকসিনের মধ্য চুবিয়ে কবুতরের পাখনা মেলে ধরে যে ত্রিকোনাকৃতি মাংস বিহীন চামড়া রয়েছে সেখানে কয়েকবার খুঁচিয়ে দিতে হবে।

টিকা প্রাপ্তিস্থানঃ সরকারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস।

টিকার দামঃ প্রতি ভায়াল ২০ টাকা।

সতর্কতা ও লক্ষণীয়ঃ

1. হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন আনতে যাওয়ার সময় ফ্লাস্কে করে বরফ নিয়ে যাবেন এবং ফ্লাস্কে বরফের মধ্যে করে ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে হবে।

2. ভ্যাকসিন গোলানোর পর সর্বোচ্চ ১ ঘন্টার মধ্যে ভ্যাকসিন দেয়া শেষ করতে হবে।

3. ভ্যাকসিন দেয়ার পরে অবশিষ্ট ভ্যাকসিন যত্রতত্র ফেলে দেয়ার যাবে না বরং ভ্যাকসিনের ভায়াল/বোতল এবং ভ্যাকসিনে ব্যবহৃত অন্যান্য জিনিস মাটির নিচে পুতে ফেলতে হবে অথবা আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

২। রাণীক্ষেত (BCRDV) ভ্যাকসিনঃ

১ম ডোজ দেয়ার বয়সঃ ৭  দিন বয়সে প্রথমবার রাণীক্ষেত (BCRDV) ভ্যাকসিন দিতে হয়।

২য়/বুস্টার ডোজ দেয়ার বয়সঃ ২১ দিন বয়সে বুস্টার বা ২য় ডোজ ভ্যাকসিন দিতে হয়।

টিকা তৈরির পদ্ধতিঃ ছোট কাচের ভায়ালে দেয়া সবুজ রঙ্গের ট্যাবলেট টি ৬ মিলি পানির সাথে মিশাতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে যে নরমাল পানি সরাসরি মিশানো যাবে না। প্রথমে পানি ভালভাবে ফুটিয়ে নিয়ে তারপরে সেই ফুটানো পানি ঠান্ডা করে  মিশাতে হবে। এই তৈরিক্ক্রিত ভ্যাকসিন টি ১০০ টি বাচ্চাকে দেয়া যাবে।

টিকার ডোজ ও দেয়ার পদ্ধতিঃ তৈরিকৃত ভ্যাকসিন প্রতিটি কবুতরের শুধুমাত্র যেকোনো এক চোখে এক ফোঁটা দিয়ে দিতে হবে।

টিকা প্রাপ্তিস্থানঃ সরকারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস।

টিকার দামঃ প্রতি ভায়াল ১৫ টাকা।

সতর্কতা ও লক্ষণীয়ঃ

1. হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন আনতে যাওয়ার সময় ফ্লাস্কে করে বরফ নিয়ে যাবেন এবং ফ্লাস্কে বরফের মধ্যে করে ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে হবে।

2. ভ্যাকসিন গোলানোর পর সর্বোচ্চ ১ ঘন্টার মধ্যে ভ্যাকসিন দেয়া শেষ করতে হবে।

3. ভ্যাকসিন দেয়ার পরে অবশিষ্ট ভ্যাকসিন যত্রতত্র ফেলে দেয়ার যাবে না বরং ভ্যাকসিনের ভায়াল/বোতল এবং ভ্যাকসিনে ব্যবহৃত অন্যান্য জিনিস মাটির নিচে পুতে ফেলতে হবে অথবা আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

৩। রাণীক্ষেত (RDV) ভ্যাকসিনঃ

১ম ডোজ দেয়ার বয়সঃ ২ মাস বা তার বেশি বয়সী সকল কবুতর কে দিতে হবে।

২য়/বুস্টার ডোজ দেয়ার বয়সঃ এরপর প্রতি ৪ – ৬  মাস পর পর এই ভ্যাকসিন দিতে হবে।

টিকা তৈরির পদ্ধতিঃ ছোট কাচের ভায়ালে দেয়া সবুজ রঙ্গের ট্যাবলেট টি ১০০ মিলি পানির সাথে মিশাতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে যে নরমাল পানি সরাসরি মিশানো যাবে না। প্রথমে পানি ভালভাবে ফুটিয়ে নিয়ে তারপরে সেই ফুটানো পানি ঠান্ডা করে  মিশাতে হবে। এই তৈরিক্ক্রিত ভ্যাকসিন টি ১০০ টি বাচ্চাকে দেয়া যাবে।

টিকার ডোজ ও দেয়ার পদ্ধতিঃ তৈরিকৃত ভ্যাকসিন প্রতিটি কবুতরের রানের মাংসে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে ১ মিলি করে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন ইনজেকশনের সুচ যেন হাড়ে না লাগে।

টিকা প্রাপ্তিস্থানঃ সরকারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস।

টিকার দামঃ প্রতি ভায়াল ১৫ টাকা।

সতর্কতা ও লক্ষণীয়ঃ

1. হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন আনতে যাওয়ার সময় ফ্লাস্কে করে বরফ নিয়ে যাবেন এবং ফ্লাস্কে বরফের মধ্যে করে ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে হবে।

2. ভ্যাকসিন গোলানোর পর সর্বোচ্চ ১ ঘন্টার মধ্যে ভ্যাকসিন দেয়া শেষ করতে হবে।

3. ভ্যাকসিন দেয়ার পরে অবশিষ্ট ভ্যাকসিন যত্রতত্র ফেলে দেয়ার যাবে না বরং ভ্যাকসিনের ভায়াল/বোতল এবং ভ্যাকসিনে ব্যবহৃত অন্যান্য জিনিস মাটির নিচে পুতে ফেলতে হবে অথবা আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

কবুতর পালন রোগ ও চিকিৎসা সম্পর্কিত আরো জানতে আমার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুনঃ

<<<সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন>>>

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *