কেমন হবে লেয়ার মুরগির বাসস্থান

খামার ব্যবস্থাপনা প্রাণিসম্পদ মুরগি পালন লেয়ার মুরগি পালন

মুরগির ঘর তৈরীর জন্য স্থান নির্বাচনঃ

  1. উঁচু জায়গা যেখানে পানি জমে থাকে না।
  2. লোকালয় থেকে দূরে।
  3. অন্য মুরগি এবং প্রাণীর ঘর থেকে দূরে হবে।
  4. যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধাজনক হতে হবে।
  5. বাজারজাতকরণের সুবিধা থাকবে।
  6. পানি ও বিদ্যুতের সুবিধা থাকবে।

ডিমপাড়া মুরগির ঘর তৈরীঃ
মুরগি পালন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে ঘর তৈরী করা হয়। তিন পদ্ধতিতে মুরগি পালন হয়। যথাঃ

  1. লিটার বা বিছানা পদ্ধতি
  2. মাঁচা পদ্ধতি
  3. খাঁচা পদ্ধতি

লিটার বা বিছানা পদ্ধতিতে মুরগি পালনঃ

এই পদ্ধতিতে ঘরের মেঝের উপর বিছানা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য ব্যবহার করে মুরগি পালন করা হয়। লিটারের সহজলভ্যতা ও দামের উপর নির্ভর করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম দ্রব্য লিটার হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

লিটারের গুণাগুণঃ
লিটার ওজনে হালকা, দ্রুত পানি শোষন ক্ষমতা, নরম ও আরামদায়ক, সুলভ ও সহজলভ্য, কম তাপ পরিবহন ক্ষমতা ইত্যাদি গুণাগুণ যুক্ত হতে হবে।

লিটার হিসাবে ব্যবহৃত দ্রব্যাদিঃ

  1. তুষ
  2. করাতে কাটা কাঠের গুড়া
  3. বালি
  4. ছাই
  5. আখের ছোবড়া
  6. খড়ের ছোট টুকরা ইত্যাদি।

ভাল লিটার দ্রব্যের বৈশিষ্ট্যঃ

  1. আরামপ্রদ।
  2. অধিক পানি শোষন ক্ষমতা সম্পন্ন।
  3. আর্দ্র হওয়া চলবে না।
  4. শুষ্ক ও ঝরঝরে হবে তবে ধুলি হবে না।
  5. সহজলভ্য ও সস্তা।
  6. ছত্রাক ও পরজীবি মুক্ত।
  7. লিটার হিসাবে ব্যবহারের পর সার হিসাবে ব্যবহার করা যায় এমন।

লিটার ব্যবস্থাপনাঃ

  1. মুরগির ঘরে মুরগি রাখার ১ সপ্তাহ পূর্বে লিটার দ্রব্য সরবরাহ করতে হবে।
  2. লিটার এর পুরুত্ব ১.৫-২ ইঞ্চি হবে।
  3. লিটার যাতে মলমুত্রাদি অথবা খাবার পানির মাধ্যমে ভিজে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
  4. লিটার প্রতি সপ্তাহে আঁচড়া দিয়ে আগলা করে নিতে হবে।
  5. কেক হলে ভেঙ্গে দিতে হবে।
  6. প্রয়োজনে পুরাতন লিটারের উপর পাতলা করে নতুন লিটার যোগ করা যেতে পারে।
  7. লিটারের আর্দ্রতা যেন ২০-২৫ ভাগ এর মধ্যে হয়, লিটার মাঝে মাঝে উল্টে পাল্টে অর্থাৎ উপরের লিটার নীচে এবং নীচের লিটার উপরে দিতে হবে।
  8. আর্দ্রতা কম থাকলে পানি স্প্রে করতে হবে।
  9. আর্দ্রতা বেশি থাকলে লিটারের সাথে কিছু সুপার ফসফেট বা চুন এবং কিছু শুকনো লিটার মিশাতে হবে।

মাঁচা পদ্ধতিতে মুরগি পালনঃ

খাঁচা পদ্ধতিতে মুরগি পালনঃ

  1. বর্তমানে আধুনিক বিশ্বে খাঁচা পদ্ধতিতে অধিক দক্ষভাবে ডিম পাড়া মুরগি পালন করা হচ্ছে। বিভিন্ন টাইপের খাঁচা বাজারে পাওয়া যায়। খাঁচা সাধারণত পিরামিড টাইপ বা ব্যাটারী হয়ে থাকে।
  2. ১৮ইঞ্চি×১২ইঞ্চি×১৮ইঞ্চি (দৈর্ঘ্য×প্রস্থ×উচ্চতা) বিশিষ্ট একটি খোপে অনায়াসে ৩টি ডিমপাড়া মুরগি রাখা যায়।

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *