গরমে মুরগিকে হিট স্ট্রোক থেকে বাচাতে আজই শুরু করুন “ফিড রেস্ট্রিকশন”-ডাঃ শিবলী

খামার ব্যবস্থাপনা প্রাণিসম্পদ ফিড ফর্মুলেশন ব্রয়লার মুরগি পালন মুরগি পালন

মুরগীর খাদ্য বন্ধ রেখে পালনের নাম রেস্ট্রিকশান। দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় খাদ্য বন্ধ রাখতে হয় এই পদ্ধতিতে। প্রথমে অল্প অল্প করে বাড়াতে বাড়াতে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় সম্পূর্ণ খাদ্য বন্ধ রাখতে হয়।
১৪ দিন ১২ টা থেকে ১ টা
১৫ দিন ১২ টা থেকে ২ টা
১৬ দিন ১১ টা থেকে ২ টা
১৭ দিন ১১ টা থেকে ৩ টা
১৮ দিন ১০ টা থেকে ৩ টা
১৯ দিন ১০ টা থেকে ৪ টা
২০ দিন ৯ টা থেকে ৪ টা
২১ দিন ৯ টা থেকে ৫ টা
২২ দিন থেকে বিক্রি পর্যন্ত সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে। এতে করে মুরগীর শরীর কম তাপ উৎপন্ন হবে এবং মুরগী চনমনে থাকবে। এতে করে মুরগীর স্ট্রোক হবার সম্ভাবনা ৯০ ভাগ পর্যন্ত কমে যাবে।

মনে রাখবেন:-
১। খাবার বন্ধ রাখার শিডিউল হুট করে হঠাৎ পরিবর্তন করা যাবে না। একদিন খুব বেশী বন্ধ আর একদিন রোদের গরম কম বলে খাবার দিয়ে দিবেন সেটা চলবে না। শিডিউল শুরু করলে নিয়মিত করতে হবে।

২। খাবার বন্ধ মানে সম্পূর্ণ বন্ধ। মায়া করে অল্প একটু দেই এটা করা যাবে না। খাদ্যের পাত্র সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলতে হবে।

৩। রেস্ট্রিকশান চলাকালীন সময়ে পানি যেন কোন রকম গ্যাপ না পড়ে তার দিকে নজর রাখতে হবে। দরকার হলে দিনের মধ্যে তিনবার পানি দিতে হবে এবং খাবার পাত্রের জায়গায় পানির পাত্র দেয়া যাবে।

৪। রেস্ট্রিকশান চলাকালীন মুরগী অসুস্থ হলে ধাপে ধাপে রেস্ট্রিকশান কমিয়ে দিতে হবে তবে একদম বন্ধ করা যাবে না।

অনেকের মনে হতে পারে:-
১। ৮ ঘন্টা খাবার বন্ধ রাখলে মুরগী খাবে কখন আর ওজন আসবে কেমনে?
পৃথিবীতে শুধু একটা প্রাণী আছে যে চোখের ক্ষুধায় খায়, সেটা হল মানুষ বাকি সবাই প্রয়োজনমত খায়। মুরগীকে বোকা ভাবার অবকাশ নেই। মুরগী যখন দেখবে আপনি ধীরে ধীরে তার খাবার সময় কমিয়ে দিচ্ছেন এবং সেটা প্রতিদিন বাড়াচ্ছেন তখন সে এমন ভাবে তার খাবার খেয়ে নিবে যেন কোন রকম পুষ্টির ঘাটতি না হয়। রাতের বেলা সে তার পরিমান মত খেয়ে নিবে এবং ওজন আসবে।

২। না খেতে দিলে মুরগী মরে যাবে না?
না মরবে না, তাকে বাঁচানোর জন্যই তো আপনি রেস্ট্রিকশান করছেন।

৩। রেস্ট্রিকশান চলাকালীন কোন ঔষধ চালাব?
কোন ঔষধ চালানোর দরকার নেই কারন শুধুমাত্র ঔষধ কখনোই স্ট্রোক বন্ধ করতে পারবে না। তবে সকালে ইলেকট্রোলাইটস দিতে পারেন।

৪। আমার মুরগীর বয়স তো ২০ দিন আমি কেমনে করব?
আজ থেকেই শুরু করুন তবে হঠাৎ করে না। প্রথম দিন ১ ঘন্টা তারপর ২.৩০ ঘন্টা তার পর ৪.৩০ ঘন্টা তারপর ৬.৩০ ঘন্টা তারপর ৮ ঘন্টা বা আস্তে আস্তে অন্য উপায়ে।

ক্রেডিটঃঃ ডাঃ মাসুদুল ইসলাম শিবলী ভাই।

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *