গরুর বিকল্প খাদ্য : পাতাকপি – জাহিদুল ইসলাম (পিডিএফ)

আধুনিক কৃষি খামার ব্যবস্থাপনা গরু পালন গরু মোটাতাজাকরণ গরুর ফিড ফর্মুলেশন ডেইরি ফার্মিং প্রাণিসম্পদ ফিড ফর্মুলেশন

বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট নিয়ে বিবিসি ইংলিশের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এক চাইনিজ ভদ্রলোলের মুখে শুনেছিলাম, পৃথিবীতে কোন প্রানীর খাদ্যের সংকট নাই, সংকট শুধু মানুষের সৃষ্টি করা বিপনন ও বন্টন ব্যবস্তায়। জাতিসংঘ খাদ্য কৃষি সংস্থার ২০১০ সালের এক হিসাব মতে পৃথিবীতে ১৬০ কোটি টনের উপরে খাদ্যপন্য প্রতিবছর নষ্ট হয় যার ৮০% সম্পূর্ণ ফ্রেশ এবং যেকোন প্রানীর খাবার হিসাবে সম্পূর্ণ উপযুক্ত। তাহলে বর্তমানে এই পরিমান টা ২০০ কোটি টনের অনেক উপরে। একজনের ফেলে দেয়া খাবার হতে পারে আরেক প্রানীর জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্য।

গরুর খাদ্য হিসাবে পাতাকপি : শীত প্রধান অঞ্চল থেকে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া ‘পাতাকপি’ বিশ্বব্যাপী মানুষের জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত সবজি ৷ অনেক দেশে অতিরিক্ত উৎপাদিত পাতাকপি গরুসহ অন্য প্রানীর বিকল্প খাদ্য। আমাদের দেশে শীতকালে প্রচুর পরিমানে পাতাকপি উৎপাদন হয় এবং অনেক অঞ্চলে সঠিক মূল্য না পেয়ে ফেলে দেয়া হয় বা নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়। তাই সস্তায় পাওয়া পাতকপি হতে পারে উচ্চপুষ্টি সমৃদ্ধ বিকল্প গোখাদ্য। পাতাকপিতে আছে ঘাসের চেয়ে বেশী মাত্রায় ক্রুড প্রোটিন অন্যান্য পুষ্টি উপাদায়। এতে আছে বিভিন্ন প্রকার মিনারেলস বা খনিজ উপাদান। ফেলে দেয়া পাতাকপি হতে পারে খুব ঘাসের বিকল্প। প্রতি কেজি পাতাকপির ড্রাই ম্যাটারে আছে গড়ে প্রায় ২০% ক্রুড প্রোটিন, ৬.৬ সুগার এবং ১৬ মেগাজুল গ্রস এনার্জি।

পাতাকপির পুষ্টি উপাদান : (%/ড্রাই ম্যাটার)

ড্রাই ম্যাটার : ১৪.৭%
ক্রুড প্রোটিন : ১৮.৪%
ক্রুড ফাইবার : ২.৫%
ক্রুড ফ্যাট : ২.৫%
লিগনিন : ৫.৫%
এশ : ৮.৭৫%
সুগার : ৬.৬ %
হজম যোগ্য পুষ্টি উপাদান : ৭৪%
নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার : ২৫.৫%
এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার : ২৩.৬ %
গ্রস এনার্জি : ১৬.০১ মে.জুল/কেজি
মেটাবলিক এনার্জি : ১২.১৭ “

মিনারেলস: (গ্রাম/কেজি ড্রাই ম্যাটার)

ক্যালসিয়াম : ১৩ গ্রাম
ফসফরাস : ৩.০ “

ক্ষতিকর উপাদান : সালফার।

পাতাকপির সাইলেজ : সাইলেজ হিসাবে পাতাকপি হতে পারে ঘাসের খুব ভালো বিকল্প। পাতাকপি খুব ভালো করে পানিতে ধুয়ে কুচি করে কেটে ৩/৪ ঘন্টা রোদে রেখে হালকা শুকায় নিলে খুব ভালো ও ঘাসের চেয়ে বেশী পুষ্টি মানের সাইলেজ পাওয়া যায়।

মাত্রা ও সতর্কতা : পাতাকপি খাওয়ানোর আগে অবশ্যই পাতা গুলো আলাদা করে ভালো করে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ২/৩ ঘন্টা রোদে রাখতে হবে। কারন পাতাকপিতে বিভিন্ন কিটনাশক ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় ও থাকতে পারে। তাছাড়া স্বাভাবিক পরিমানের চেয়ে কিছুটা বেশীমাত্রায় সালফার থাকায় শুরুতেই অনেক বেশী দেয়া যাবেনা। আস্তে আস্তে পরিমান বাড়াতে হবে। প্রথম দিকে গরু কিছুটা পাতলা পায়খানা করলেও কিছুদিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। গরুর দৈনিক রাফেজ চাহিদার ( কমপক্ষে বডি ওয়েটের ১০%) ৫-৬% পাতাকপি দিয়ে পূরন করা সম্ভব।

ধন্যবাদ সবাইকে।

তথ্যসূত্র :

১. এনিম্যাল নিউট্রিশন, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রি স্টেট, সাউথ আফ্রিকা।
২. ডিপার্টমেন্ট অব ভেট সায়েন্স, সুলতান কাবুস ইউনিভার্সিটি, ওমান।

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *