গরু ছাগলের পক্স ও আঁচিল রোগের প্রাকৃতিক ভেষজ চিকিৎসা

গরু ছাগলের পক্স ও আঁচিল রোগের প্রাকৃতিক ভেষজ চিকিৎসা

খামার ব্যবস্থাপনা গরু মোটাতাজাকরণ গাড়ল পালন ছাগল পালন ডেইরি ফার্মিং পশু-পাখির ভেষজ চিকিৎসা প্রাণিসম্পদ রোগ ও প্রতিরোধ

প্রিয় খামারি বন্ধুরা, আজ আমি আলোচনা করব গরু ছাগলের পক্স ও আঁচিল রোগের প্রাকৃতিক ভেষজ চিকিৎসা নিয়ে। মুলত গরু ছাগলের পক্স ও আঁচিল ২ টি ভাইরাস ঘটিত রোগ। সাধারণত পক্স হলে গরু বা ছাগলের শরীরে দাগ পড়ে থাকে। ক্ষত হয়ে নানা জটিলটা তৈরি করে। অন্যদিকে, আঁচিল হলে তা ধীরে ধীরে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং আঁচিল থাকলে বাজারে গরুর দাম ভাল পাওয়া যায়না; বিশেষ করে কোরবানীর গরুতে আঁচিল থাকলে তা সহজে বিক্রি হয় না।

গরু ছাগলের রোগের প্রাকৃতিক ভেষজ চিকিৎসা:

সাধারণত আমাদের দেশে পক্স ও আঁচিল রোগের জন্য গতানুগতিক চিকিৎসা আমরা নিয়ে থাকি। তাতে আমরা কখনো কখনো হয়ত সুফল পাই আবার কখনো হয়তো বা সমাধান পাই না। কিন্তু আমরা চাইলের ভেটেরিনারি এলোপ্যাথিক চিকিৎসার পাশাপাশি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ভাবে ভেষজ চিকিৎসা বাড়িতে বসেই করতে পারি। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে গরু ছাগলের পক্স ও আঁচিল রোগের চিকিৎসায় প্রাকৃতিক এই ভেষজ চিকিৎসা পদ্ধতি বেশ অনুসরণ করা হয়ে থাকে।

আজ এই পর্বে আমি আপনাদের জানাব, কিভাবে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে কোনো ধরনের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ছাড়াই গরু ছাগলের পক্স ও আঁচিল রোগের ভেষজ চিকিৎসা করা উপায়।

গরু ছাগলের পক্স ও আঁচিল রোগের প্রাকৃতিক ভেষজ চিকিৎসা
গরু ছাগলের প্রাকৃতিক ভেষজ চিকিৎসা

তো চলুন দেখে নিই কি কি উপাদান লাগবে এবং কিভাবে ভেষজ ঔষধ তৈরি করতে হবে এবং কিভাবে ব্যবহার করতে হবে?

উপাদান সমূহঃ

  • ১। রসুন – ৫ কোয়া (টুকড়া)
  • ২। হলুদ গুড়া – ১০ গ্রাম।
  • ৩। জিরা – ২৫ গ্রাম।
  • ৪। পুদিনা পাতা – ১ মুঠো
  • ৫। নিম পাতা – ১ মুঠো
  • ৬। বাটার / ঘি – ৫০ গ্রাম।

পেষ্ট প্রস্তুত প্রণালীঃ

  • প্রথমে উপরোক্ত পরিমাণে জিরা পানিতে ১৫ মিনিট ধরে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
  • এরপরে উপরোক্ত অনুপাতে ভিজিয়ে রাখা জিরা, রসুন, হলুদ গুড়া, সুইট বাসিল এবং নিম পাতা একসাথে একটা ব্লেন্ডারে নিয়ে ভাল করে ব্লেন্ডিং করে মিহি পেষ্ট তৈরি করতে হবে।
  • তৈরিকৃত পেষ্টের সাথে এবার বাটার অথবা ঘি যেটা পাওয়া যায়, তা মিশিয়ে জেলির মত পেষ্ট তৈরি করতে হবে।
  • যতটুকু দরকার সেই প্রয়োজন অনুযায়ী উপরোক্ত অনুপাতে পেষ্ট তৈরি করে নিতে হবে।
  • প্রতিদিনের জন্য প্রয়োজনীয় পেষ্ট প্রতিদিনই তৈরি করতে হবে। একদিন বেশী করে তৈরি করে অনেকদিন ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিদিনের তৈরিকৃত পেষ্ট প্রতিদিন ব্যবহার করতে হবে।

ব্যবহার পদ্ধতিঃ

  • প্রথমে পশুর আক্রান্ত স্থান ভাল করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। ধোয়ার পরে তুলা বা সুতি কাপড় দিয়ে ভিজা জায়গা মুছে শুকিয়ে নিতে হবে।
  • এরপরে যেসকল জায়গায় পক্স বা আঁচিল হয়েছে সেই জায়গায় উপরোক্ত তৈরিকৃত পেষ্ট ভাল করে লাগিয়ে দিতে হবে।
  • এভাবে দিনে ৪ – ৫ বার আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। এভাবে পক্স/আচিল না সেরে যাওয়া পর্যন্ত লাগাতে হবে।

আশা করছি আমার আজকের লেখা টি দেশের প্রান্তিক ডেইরি খামারি, ছাগল খামারি অথবা ছাগল প্রেমিক ও সাধারন গাভির খামারিদের জন্য কিছুটা হলেও সুফল বয়ে আনবে।

আমি ডাঃ শ্রাবণ হাসান সজল, নতুন কিছু জানার চেষ্টায় ছুটে চলেছি; নতুন কিছু আপনাদের জানানোর চেষ্টায় এই ওয়েবসাইট এবং ভিডিও পরামর্শ দেয়ার উদ্দেশ্যে ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত আপডেট দেয়ার চেষ্টা করি।

আমার লেখা ভাল লাগলে অবশ্যই লেখাটি ফেসবুকে শেয়ার করুন এবং আমার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

<<< সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন >>>

আমার লেখাগুলো এবং ভিডিও এর নিয়মিত আপডেট পেতে আমার ফেসবুক পেজটি ও লাইক করতে পারেনঃ

<<< আমার ফেসবুক পেজ >>>

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *