গরু মোটাতাজাকরণ করে লাভবান হতে চাইলে যা যা করতে হবে

গরু মোটাতাজাকরণ গরুর ফিড ফর্মুলেশন গরুর ভ্যাকসিন শিডিউল ডেইরি ফার্মিং প্রাণিসম্পদ ভ্যাকসিন নিয়ে যত কথা ভ্যাকসিনেশন মেডিসিন পরিচিতি রোগ ও প্রতিরোধ

গরু মোটাতাজাকরণ করে লাভবান হতে চাইলে একটু কৌশলী হতে হবে।আজ আপনাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল বা পরামর্শ জানাব।

গরু ক্রয়ের উৎস

গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প হাতে নেয়ার শুরুতেই গরু ক্রয়ের উৎস আগে থেকে ঠিক করতে হবে। যেমন-কোন ফার্ম থেকে সংকর জাতের শুধু ষাড় বাছুর সংগ্রহ করা যেতে পারে স্থানীয় কোন বাজার থেকেও দেশী বা সংকর জাতের ষাড় গরু ক্রয় করা যেতে পারে। গরু ক্রয়ের পর পরিবহণ একটি সমস্যা হতে পারে- ২/৩ কিলােমিটার পথ হলে গরুকে হাঁটিয়ে নিয়ে আসা যেতে পারে আর  দুরের পথ হলে অবশ্যই পরিবহণ ব্যবহার করতে হবে এবং সে খরচ পােষাতে হলে গরুর সংখ্যা বেশী হতে হবে। গরুকে বেশী হাঁটিয়ে নিলে যে পরিশ্রম হবে তা কাটিয়ে উঠতে সময় নিবে এবং খরচও বেশী হবে।

গরু মোটাতাজাকরণ করার জন্য নির্বাচিত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা:

* গরুগুলাে কোন রােগে আক্রান্ত কনা তা ভালভাবে পরীক্ষা করে সুষ্ঠ চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলতে হবে।

* পশুকে ডি-ওয়ামিং এর মাধ্যমে কৃমিমুক্ত করতে হবে। কারণ আমাদের দেশের প্রায় ১০০% পশু কৃমিতে আক্রান্ত হয় এ জন্য পশু ক্রয় করার পর অবশ্যই কৃমিনাশক ঔষধ প্রয়ােগ করতে হবে। এর পর ঐ পশুকে ৩/৪ মাস পর পর পুনরায়

কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে হবে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ব্রড স্প্রেকটাম কৃমিনাশক ঔষধ পাওয়া যায়।

নিম্নবর্ণিত যে কোন ঔষধ ব্যবহার করা প্রয়ােজন।

Levanid 1500mg bolus, Acme

Endex 1500 mg, Novartis

LT-vet 1500mg bolus, Acme

Tremacid 1500 mg bolus, Renata

প্রয়ােগ পদ্ধতিঃ

উপরের যে কোন একটি কমির ঔষধ প্রতি ৮০-১০০ কেজি ওজনের পশুর জন্য ১টি বড়ি খালি পেটে খাওয়াতে হবে।

কমিনাশক ঔষধ ব্যবহারের ফলে পশুর সাময়িক রুচি কমে যেতে পারে। এছাড়া শরীর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই পশুকে রুচিসহ শক্তি বৃদ্ধির জন্য নিম্নেবর্ণিত ঔষধ খাওয়াতে হবেঃ

DB-Zyme 20 gm powder, Navana

Rumen vet 20 gm Powder

DP-Vet 30 mg powder,

Digestovet 100gm (Vets)

Zymovet powder

গরু মোটাতাজাকরণ করার জন্য গরুর শরীরে মাংস বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের সংগে নিয়মিত ভিটামিন দেওয়া একান্ত প্রয়ােজন। বাজারে অনেক ডিবি-ভিটামিন পাওয়া যায় তার মধ্যে যে কোন একটি

ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভেটেরিনারিয়ানের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

অতি দ্রুত গরুর শরীরে মাংস বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন এর পাশাপাশি ট্রনিক জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহার করা যেতে পারে।

নিম্নে যে কোন একটি ইনজেকশন।

ব্যবহার করা যায়। যদিও এই ঔষধ গুলাের মূল্য একটু বেশী তবে কার্যকারিতা|

 ১। ইনজেকশন এ সল-১০০মিলি ভায়াল (Inj. A-Sol 100 ml Vial,Acme)/

২। ইনজেকশন ক্যাটাসল ৫০মিলি, ১০০মিলি ভায়াল (Inj. Catesol, 50 ml, 100 ml)/

৩। ইনজেকশন মেটাফোসল ৫০ মিলি ভায়াল (Inj.

Metaphosol 50 ml, Bremar, France) T Inj. r to a

(Inj. Metafos 50 ml, Techno)

৪।  Inj. Catophos 30ml, 50ml, 100ml vial, Ranata)

৫।  ইনজেকশন ভিটাফস ৩০মিলি, ৫০মিলি, ১০০মিলি ভায়াল) Inj.Vitaphos 30ml, 50ml, 100ml vial, Ranata)

প্রয়ােগের নিয়মঃ

 উপরের যে কোন একটি টোনিক ইনজেকশন প্রতি ১৫ দিন অন্তর১০-২০ কেজি দৈহিক ওজনের পশুর জন্য ১০-২০ মি.লি ঔষধ মাংসে বা শিরায় মােট ৩-৪টি ইনজেকশন প্রয়াগ করতে হবে। উপরােক্ত ইনজেকশন যদি পশু মালিক করাতে না পারেন তাহলে নিম্নবর্ণিত ঔষধ বিকল্প টোনিক ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

 ১) ইনজেকশন ভি-প্লেক্সভেট ১০মিলি, ১০০মিলি ভায়াল (Inj. V-plex Vet 10ml, 100 ml, Acme)

২) ইনজেকশন ভিটাটনিক ৩০মিলি, ৫০মিলি ভায়াল

(Inj. Vitatonic 30ml, 50ml vial, Ranata

৩) (Inj. Revit B 10 ml vial, Opsonin)

৪) ইনজে. ভিটা এডিই ১০মিলি

এছাড়া পশু স্বাস্থ্য ও শক্তিশালী ও গরু মোটাটাজাকরণ করার জন্য ক্যালশিয়াম জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহার করা যায়, যেমন-

১) ইনজেকশন ক্যালসিভিট প্লাস ১০০মিলি (Inj. Calivit 100ml)

২) ইনজেকশন ডিক্যাম

৩) ইনজেকশন ক্যালডি-ম্যাগ ২০০মিলি(Inj. Cal-D-Mag 200 ml bottle, Renata)

৪) ইনজেকশন কোফাক্যালসিয়াম ২৫০মিলি, ৫০০মিলি।

(Inj. Cofacalcium 250 ml, 500 ml bottle, Advance)

https://www.facebook.com/vetshopbd

ব্যবাহারের নিয়মঃ

পশুর ওজন দৈহিক ওজন ১০০-১৫০ কেজি হলে ২০০- ৩৫০ মিলি ক্যালসিয়াম ইনজেকশন শিরায় প্রতি মাসে পর পর মােট ৩টি প্রয়ােগ করলে গরু খুব শক্তিশালী ও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অথবা গরুকে ক্যালসিয়াম জাতীয় ইনজেকশন প্রয়ােগ ঝামেলা বা সমস্যা মনে হলে বাজারে ওরাল ক্যালসিয়াম প্রিপারেশন ঔষধ খাওয়ানো যেতে পারে। নিম্নে ওরাল ক্যালসিয়াম সানক্যাল- পি ওরাল, রেনা ক্যাল পি ওরাল, ক্যাল-পি ভেট, সিপি ভেট ইত্যাদি ভেটেরিনারি ডাঃ এর পরামর্শ নিয়ে খাওয়াতে হবে।

বিভিন্ন রােগের বিরুদ্ধে টীকা/ভ্যাকসিন/প্রতিষেধকঃ

গরুকে কোন টিকা দেওয়া না থাকলে ক্রয় করার ৭ দিন পর থেকে বিভিন্ন ধরনের টিকা ১৫ দিন পর পর দিতে হবে।

নিম্নে বর্ণিত টিকা পশুকে প্রয়ােগ করতে হয়।

যেমন- তড়কা, ক্ষুরা, বাদলা, গলাফুলা ইত্যাদি।

প্রকল্পের গরুকে কমপক্ষে ২টি ভ্যাকসিন অবশ্যই করা উচিত। একটি হল তড়কা আর অপরটি হলাে ক্ষুরা বা F.M.D রোগের টিকা। কারণ তড়কা একটি মারাত্মক রােগ। তড়কা টিকা প্রদান না করলে যে কোন সময় পশু মারা যেতে পারে।

এ রােগ চিকিৎসার সুযােগ দেয় না।

তড়কা রােগের ভ্যাকসিন ১ মিলি চামড়ার নীচে দিতে।তবে বছরে একবার মাত্র।

এছাড়া ক্ষুরা রোগ বা FMD রোগ ও একটি মারাক্তক রোগ। যদিও এ রোগে বড় গরু মারা যায় না তথাপি এ রােগে পশুর ওজন এত কমে যায় অর্থাৎ দূর্বল হয়ে পড়ে যে- ৬ মাসে গরু আর সেই পূর্বের অবস্থায় ফিরব আসে না এবং শরীরে ৬ মাস পর্যন্ত রোগের জীবাণু বসবাস করে।তাই তড়কা ভ্যাকসিন দ্ব্যার ১০-১৬ দিন পর এফ এম ডি / FMD ভ্যাকসিন দিতে হবে।প্রতি ৪ মাস পর পর এই ভ্যাকসিন দিতে হয়। তাই গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পে এই টিকা শুরুতেই এবং শেষের দিকে ২ বার দেয়া ভাল।

এছাড়া সুযোগ থাকলে গরুকে অবশ্যই বাদলা ও গলাফুলা রোগের ভ্যাকসিন ও দিতে হবে।

লেখাটি আপনার কাজে লাগলে এরকম আরো পরামর্শ পেতে আমাকে নিচের ফেসবুক ও ইউটিব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুনঃ

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *