চৌবাচ্চায় শিং মাগুর মাছ চাষ করার পদ্ধতি

আর এ এস পদ্ধতি ড্রামে মাছ চাষ দেশি মাছ চাষ মাছ চাষ মৎস্যসম্পদ
  • শিং মাগুর মাছ চাষে কি ধরণের পাত্র চৌবাচ্চা বাছাই করবেন
  • শিং মাগুর মাছ চাষ করার সঠিক সময়/মৌসুম 
  • কিভাবে শিং মাগুর মাছের পোনা ছাড়তে হবে ও সঠিক নিয়মে যত্ন নিতে হবে
  • সঠিক নিয়মে শিং মাগুর মাছের  চাষাবাদ পদ্ধতি/কৌশল
  • শিং মাগুর মাছের খাবারের পরিমাণ ও সঠিক নিয়মে খাবার প্রয়োগ
  • শিং মাগুর মাছের রোগ বালাই ও তাঁর প্রতিকার 
  • শিং মাগুর মাছ চাষে সার প্রয়োগ 
  • কিভাবে শিং মাগুর  মাছের  যত্ন নিবেন
  • শিং মাগুর খাদ্য গুণাগুণ
  • কখন শিং মাগুর মাছ সংগ্রহ করবেন
  • কি পরিমাণে শিং মাগুর মাছ পাবেন

শিং মাগুর মাছ আমাদের দেশের কে না চেনে? মাছ প্রিয় মানুষমাত্রই জিওল মাছের ভক্ত। অন্যান্য মাছের তুলনায় এই জিওল মাছের চাহিদা অনেক বেশি। এবং এই সকল জিওল মাছের দামও অনেক বেশি। সুস্বাদু ও উপাদেয় এ মাছ দেশের সব শ্রেণীর মানুষের কাছে অত্যন্ত লোভনীয়। বাড়িতে যে কোন পাত্রে অনেক দিন পর্যন্ত জীবিত রাখা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে দেশে জিওল মাছের আকাল চলছে। আপনি ইচ্ছা করলে বাড়িতে চৌবাচ্চায় শিং মাগুর মাছের চাষ করতে পারেন। আসুন জেনে নেই কিভাবে আপনি আপনার বাড়িতে এই মাছ চাষ করবেন।

শিং মাগুর মাছ চাষে কি ধরণের পাত্র চৌবাচ্চা বাছাই করবেন

ক) বাড়িতে শিং মাগুর মাছ  চাষ করার জন্য আপনি মাঝারি অথবা বড় সাইজের চৌবাচ্চার ব্যবস্থা করতে পারেন। 

খ) তবে খেয়াল রাখবেন চৌবাচ্চাটি যেন গভীর হয় (৩ থেকে ৪ ফুট)। 

শিং মাগুর মাছ চাষ করার সঠিক সময়/মৌসুম 

ক) বাড়িতে শিং মাগুর মাছ চাষ করার জন্য আপনি বছরের যেকোন সময় নির্বাচন করতে পারেন। তবে এই মাছ চাষের আদর্শ সময় এপ্রিল-মে মাস। 

খ) এছাড়াও জুন-জুলাই মাসেও এই মাছের চাষ করা যায়। 

গ) তবে খেয়াল রাখবেন যে বাড়িতে চৌবাচ্চায় শিং মাগুর মাছের পোনা ছাড়ার ক্ষেত্রে আপনাকে সকাল অথবা সন্ধ্যা এই দুই সময়ের যেকোন একটি নির্বাচন করতে হবে। 

ঘ) কারণ এসময় তাপমাত্রা সহনীয় অবস্থায় থাকে।তা না হলে মাছ মরে যেতে পারে।

কিভাবে শিং মাগুর মাছের পোনা ছাড়তে হবে ও সঠিক নিয়মে যত্ন নিতে হবে

ক) বাড়িতে চৌবাচ্চায় শিং মাগুর মাছ চাষ করার জন্য আপনাকে প্রথমে পোনা সংগ্রহ করতে হবে। 

খ) এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার নিকটস্থ যেকোন নার্সারী হতে পোনা আহরন করতে পারেন। 

গ) এছাড়াও আপনি প্রাকৃতিক ভাবে খাল, বিল কিংবা যেকোন ধরণের জলাশয় থেকে পোনা আহরণ করতে পারেন। এখন বর্তমানে শিং মাগুর মাছের পোনা পলিব্যাগে কিনতে পাওয়া যায়। 

ঘ) আপনি সেখান থেকেও পোনা আহরন করতে পারেন। তবে পোনা ছাড়ার পর আপনাকে পোনার সঠিক নিয়মে যত্ন নিতে হবে। 

সঠিক নিয়মে শিং মাগুর মাছের  চাষাবাদ পদ্ধতি/কৌশল

ক) চৌবাচ্চায় শিং মাগুর মাছ চাষ করার জন্য আপনাকে সঠিক নিয়ম অবলম্বন করতে হবে। 

খ) চৌবাচ্চায় পোনা ছাড়ার ক্ষেত্রে প্রথমে অক্সিজেন ব্যাগে পরিবহন কৃত পোনা ব্যাগ সহ পানিতে ভাসিয়ে রাখতে হবে। 

গ) এরপর পরিবহনকৃত ব্যাগের পানি ও চৌবাচ্চার পানির তাপমাত্রা একই মাত্রায় আনতে হবে।  

ঘ) তারপর ব্যাগের মুখ খুলে চৌবাচ্চার পানি অল্প অল্প করে ব্যাগে দিতে হবে এবং ব্যাগের পানি অল্প অল্প করে চৌবাচ্চায় ফেলতে হবে।

ঙ) ৪০-৫০ মিনিট সময় ধরে এরূপভাবে পোনাকে চৌবাচ্চার পানির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে। এরপর শিং মাগুর মাছের পোনা পানিতে ছাড়তে  হবে। 

শিং মাগুর মাছের খাবারের পরিমাণ ও সঠিক নিয়মে খাবার প্রয়োগ

ক) শিং মাগুর মাছ চাষে সাধারণত বেশী খাবার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। 

খ) তবে আপনি যদি ভাল ফলন পেতে চান তাহলে শিং মাগুর মাছের চৌবাচ্চায় ফিশমিল, সয়াবিন চূর্ণ, ভুট্রা চূর্ণ, গমের ভূসি, ধানের কুঁড়া, সরিষার খৈল, চিটাগুড় ইত্যাদি খাবার দিতে পারেন। 

গ) এতে মাছের ভাল ফলন পাওয়া যায়। 

শিং মাগুর মাছের রোগ বালাই ও তাঁর প্রতিকার 

ক) শিং মাগুর মাছের মূলত তেমন কোন রোগ বালাই হয় না। 

খ) তবে মাঝে মধ্যে মাছের গায়ে সাদা ফুসকুড়ি দেখা যায়। 

গ) এটা দেখা গেলে সাথে সাথে পানিতে উপযুক্ত ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। 

শিং মাগুর মাছ চাষে সার প্রয়োগ 

ক) শিং মাগুর মাছ চাষ করার জন্য আপনাকে চৌবাচ্চায় সঠিক নিয়মে সার প্রয়োগ করতে হবে। 

খ) মাঝেমধ্যে ইউরিয়া এবং অন্যান্য সার প্রয়োগ করতে হবে। 

গ) এতে পানির গুণাগুণ বজায় থাকে এবং মাছের কোন ক্ষতি হয় না। বরং এতে মাছের বৃদ্ধি অনেক ভাল হয়। 

কিভাবে শিং মাগুর  মাছের  যত্ন নিবেন

ক) বাড়িতে চৌবাচ্চা বা অন্য যেকোন ধরণের পাত্রে শিং মাগুর মাছের চাষ করার ক্ষেত্রে সঠিক যত্ন নিতে হবে। 

খ) সঠিকভাবে মাছের বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত আলো-বাতাস দরকার,। এবং প্রচন্ড রোদে যেন চৌবাচ্চার পানি বেশি গরম না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

গ) এছাড়াও যদি পানির কোন সমস্যা হয় তাহলে পানি পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে পানিতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করে পানির সঠিক মান ফিরিয়ে আনতে হবে। 

ঘ) এছাড়াও চৌবাচ্চার তলদেশ সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নন রাখতে হবে। মাছের যত্ন নিতে হবে। 

শিং মাগুর খাদ্য গুণাগুণ

ক) শিং মাগুর মাছের মধ্যে অনেক ধরনের খাদ্য গুনাগুন রয়েছে। এই মাছটি খেতে অনেক সুস্বাদু। 

খ) পুষ্টির দিক দিয়ে এই মাছ অন্য সব মাছের তুলনায় সবার উপরে। রোগীর পথ্য হিসেবে শিং-মাগুরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। 

গ) রক্ত স্বল্পতায় ভোগা অনেক রুগী এই মাছ পথ্য হিসেবে খেয়ে থাকেন।

কখন শিং মাগুর মাছ সংগ্রহ করবেন

ক) বাড়িতে চৌবাচ্চায় সঠিক নিয়মে শিং মাগুর মাছের চাষ করার পর তা বেশ তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে। 

খ) মাগুর মাছ ৮-১০ মাস আর শিং মাছ ৪-৬ মাসের মধ্যেই খাওয়ার উপযোগী হয়ে যায়।

কি পরিমাণে শিং মাগুর মাছ পাবেন

ক) বাড়িতে চৌবাচ্চায় সঠিক নিয়মে শিং মাগুর মাছ চাষ করলে সেখান থেকে আপনি প্রচুর পরিমাণে শিং মাগুর  মাছ পেতে পারেন। 

খ) যা আপনার পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে আপনি ইচ্ছা করলে এই মাছ বাজারে বিক্রিও করতে পারেন। 

সংকলনে- মোঃ শাহিন মিয়া

Facebook Comments
Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *