ছাগলের ঘর পরিচর্যা ও জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতি

খামার ব্যবস্থাপনা ছাগল পালন প্রাণিসম্পদ

ছাগল একটি গৃহপালিত প্রাণি। বর্তমানে দেশের সর্বত্রই ছাগল পালন হয়ে থাকে। ছাগল পালনের সবথেকে অন্যতম উপাদান হলো ছাগলের ঘর বা মাচা। এই ঘর বা মাচার পরিচর্যা ও যত্ন না নিলে বিভিন্ন প্রকারের রোগ জীবাণু আক্রমণ করে ছাগলের ক্ষতি করতে পারে তাই ছাগলের ঘর পরিচর্যায় খামারিকে নজর দিতে হবে। আসুন জেনে নেই ছাগলের ঘর পরিচর্যা ও জীবণুমুক্ত করার পদ্ধতি সমূহ-

ঘরের পরিচর্যা ও জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতিঃ
• ছাগল সকালে বের করার পর ছাগলের ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করেত হবে।

• ছাগলের ঘর স্যাঁতস্যাঁতে মুক্ত রাখতে হবে । আলো, বাতাস ও বায়ু চলাচল সুব্যবস্থা রাখতে হবে।

• বৃষ্টির পানি ও ঠাণ্ডা দুটোই ছাগলের জন্য ক্ষতিকর, তাই এ দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

• সপ্তাহে একদিন ছাগলের ঘর জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি দিয়ে ভালমতো পরিষ্কার করতে হবে।

ছাগল ঘরের প্রকৃতি এবং লালন পালন পদ্ধতিঃ
ছাগল ঘরের প্রকৃতিঃ ছাগল পালনের জন্য বিভিন্ন ধরণের ঘর রয়েছে। তবে সাধারণত দুই ধরণের ঘর দেখা যায়-

ভূমির উপর স্থাপিত ঘরঃ এ ধরণের ঘরের মেঝে কাঁচা অথবা পাকা হতে পারে। সাধারণত কৃষকেরা এ ধরণের ঘরে ছাগল পালন করে থাকে। এ ধরণের ঘরের মেঝেতে শুকনো খড় বিছিয়ে ঘর সব সময় পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখতে হবে।

মাচার উপর স্থাপিত ঘরঃ এ ধরণের ঘর মাটি থেকে ৩-৪ ফুট উচ্চতায় খুঁটির উপর স্থাপিত হয়। ঘরের মেঝে বাঁশ বা কাঠ দিয়ে মাচার মত তৈরি করা হয়। এ ধরণের ঘর স্বাস্থ্যসন্মত এবং পরিষ্কার করা সহজ।

দু’ধরণের ঘরই একচালা, দো- চালা বা চৌচালা হতে পারে এবং ছাগলের সংখ্যার উপর ছোট ও বড় হতে পারে।

লালন-পালন পদ্ধতিঃ
• প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে ছাগল বের করে ঘরের আশেপাশে চরতে দিতে হবে।

• এদেরকে ব্যায়াম ও গায়ে সূর্য কিরণ লাগানোর পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে।

• ঘর থেকে ছাগল বের করার পর ভাল করে ধুতে হবে।

• ঘর থেকে ছাগল বের করার আগে কোন ছাগল অসুস্থ আছে কিনা লক্ষ্য রাখতে হবে। কোন ছাগলের মধ্যে অসুস্ততার লক্ষন দেখা দিলে তা সাথে সাথে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে।

• খামারে বেশি ছাগল হলে তাঁদের চিহ্নিত করার জন্য ট্যাগ নম্বর লাগাতে হবে।

• ছাগলকে নিয়মিত সুষম খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।

• ছাগল পানি পছন্দ করে না তাই নিয়মিত গোসলের পরিবর্তে ব্রাশ দিয়ে দেহ পরিষ্কার রাখতে হবে। এতে লোমের ময়লা বের হয়ে আসে, রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত ব্রাশ করালে লোম উজ্জ্বল দেখায় এবং চামড়ার মান বৃদ্ধি পায়।

• সকল বয়সের ছাগলকে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে এবং নিয়মিত টিকা প্রদান করতে হবে।

ঘরে ছাগলের জায়গার পরিমাণঃ
ছাগলের প্রকৃতি —————– প্রয়োজনীয় জায়গার পরিমাণ

বাচ্চা ছাগল ——————— ০.৩ বর্গমিটার।

পূর্ণ বয়স্ক ছাগল —————– ১.৫ বর্গমিটার।

গর্ভবর্তী ছাগল ——————- ১.৯ বর্গমিটার।

পাঁঠা —————————- ২.৮ বর্গমিটার।

ডা মোঃ শাহিন মিয়া
ভেটেরিনারি সার্জন
চৌদ্দগ্রাম কমিল্লা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *