ছাগল পালনের ৪ টি পদ্ধতি জেনে রাখুন

ছাগল পালন প্রাণিসম্পদ

ছাগলের বিভিন্ন পালন পদ্ধতিঃ

সাধারণত ৪ ধরণের পদ্ধতিতে ছাগল পালন করা যেতে পারেঃ

  • ১. অঙ্গিনায় বা মাঠে ছেড়ে বা মাঠে বেঁধে ছাগল পালন (পারিবারিকভাবে ছাগল পালন)।
  • ২. মুক্তভাবে ছাগল পালন।
  • ৩. আধা নিবিড় (সেমি-ইন্টেনসিভ) পদ্ধতিতে ছাগল খামার।
  • ৪. নিবিড় (ইন্টেনসিভ) পদ্ধতিতে ছাগল খামার।

১. অঙ্গিনায় বা মাঠে ছেড়ে বা মাঠে বেঁধে পালন (পারিবারিকভাবে ছাগল পালন)

  • পারিবারিকভাবে ছাগল পালনের জন্য ২-৫ টি ছাগল রাখা হয়।
  • এ পদ্ধতিতে ছাগল পালন সহজ ও খরচ নাই বল্লেই চলে।
  • সাধারণত এ পদ্ধতিতে ছাগল পালনে বাস¯’ানে বাড়তি কোন ঘাস সরবরাহ করা হয় না।
  • সে জন্য পৃথক কোন আবাসনের প্রয়োজন হয়না।
  • আমাদের দেশে বেশীরভাগ কৃষক এ পদ্ধতিতে ছাগল মাঠে ছেড়ে বা মাঠে বেঁধে ঘাষ খাওয়ান।
  • এ পদ্ধতিতে ছাগল পালন করতে বাড়তি কোন লোকবলের প্রয়োজন হয় না।
  • তবে মাঠে ছেড়ে ছাগল পালন করলে অনেক ক্ষেত্রে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।
  • ভাল উৎপাদন এর জন্য এদেরকে দানাদার খাদ্যে সরবরাহ করতে হয়।

২. মুক্তভাবে ছাগল পালন

  • এই জাতীয় খামারে সাধারণত ৮-১০ টি ছাগল পালন করা হয়।
  • চাষাবাদের অনুপযোগী উচু জমি যেমন পাহাড়, পুকুর পাড়, রাস্তার ধারে, অথবা চর এলাকায় পতিত ভূমিতে এদেরকে দিনে মাঠে চড়িয়ে সন্ধায় বাড়িতে এনে চারিদিকে বেড়া/ঘেরাও দিয়ে রাখা হয়।
  • সাধারণত এ পদ্ধতিতে ছাগল পালনে বাস¯’ানে বাড়তি কোন ঘাস সরবরাহ করা হয় না।
  • তাই এ পদ্ধতিতে ছাগল পালন করতে আলাদা করে ঘাষ চাষের প্রয়োজন হয় না।
  • এদেরকে রাতে দানাদার খাদ্যে সরবরাহের ব্যব¯’া করতে হয়।
  • এ পদ্ধতিতে ছাগল পালনে কমপক্ষে এক জন লোকের প্রয়োজন।
  • চর এলাকায় এ পদ্ধতিতে ছাগল খামার করা লাভজনক।
  • চর এলাকায় ছাগল চড়ে-বেড়ানোর জন্য অনেক যায়গা পায়, এখানে রোগবালাই কম, তাই খাদ্য ও রক্ষনাবেক্ষণ খরচও অন্যাান্য ¯’ান থেকে তুলনামূলকভাবে কম হয়।
  • বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে চর এলাকা ছাড়া দেশের অধিকাংশ ¯’ানেই এ পদ্ধতিতে ছাগল পালন করা প্রায় অসম্ভব।

৩. আধা নিবিড় (সেমি-ইন্টেনসিভ) পদ্ধতিতে ছাগল খামার

  • এই জাতীয় খামারে সাধারণত একসাথে ১৫-২০টি বা আরো বেশী সংখ্যক ছাগল পালন করা হয়।
  • মুক্তভাবে ছাগল পালনের মত এ পদ্ধতিতেও দিনের বেলায় ছাগলকে মাঠে চড়ানো হয় এবং রাতে বাড়িতে এনে আবদ্ধ অব¯’ায় রাখা হয়।
  • এদেরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করার জন্য সম্পূরক খাদ্য হিসাবে ঘাস ও দানাদার খাদ্য দেয় হয়।
  • এ পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ছাগল পালন করা হয় বিধায় ছাগলের পুষ্টি, প্রজনন ও স্বা¯’্য বিষয়ে যথাযথ যতড়ব নেয়া সম্ভব হয়।
  • এ পদ্ধতিতে ছাগলের উৎপাদন আশানুরূপ হয়।
  • বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিকভাবে ছাগল পালনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বিশেষ উপযোগী। তবে এ ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ ও বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে একটুু বেশী।
  • একসাথে অধিক সংখ্যক ছাগল একত্রে থাকে বিধায় বিভিনড়ব ছোঁয়াচে রোগ যেমন- চর্ম রোগ, একথাইমা, ডায়েরিয়া ইত্যাদি রোগের প্রকোপ বেশী দিতে পারে।

৪. নিবিড় (ইন্টেনসিভ) পদ্ধতিতে ছাগল খামার

  • এই জাতীয় খামারে আবদ্ধ অব¯’ায় ছাগল পালন করা হয়, তাই খামারের সেড ও ব্যব¯’াপনার সুযোগ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ছাগল পালন করা হয়।
  • এ পদ্ধতিতে ছাগলের সেডে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার ঘাস ও দানাদার খাদ্য সরবরাহ করা হয়
  • ঘাস সরবরাহের জন্য খামারে উচ্চ ফলনশীল প্রয়োজনীয় ঘাস চাষ করা হয়।
  • এখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ছাগল পালন করা হয় বিধায় ছাগলের পুষ্টি, প্রজনন ও স্বা¯’্য বিষয়ে বিশেষ যতড়ব নেয়া সম্ভব হয়।
  • অল্প জায়গায় অধিক সংখ্যক ছাগল পালন করা যায়। তবে খামারের প্রাথমিক বিনিয়োগ ও উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভঅবে বেশী হয়।
  • একসাথে অধিক সংখ্যক ছাগল একত্রে থাকে বিধায় বিভিনড়ব ছোঁয়াচে রোগ যেমন- চর্ম রোগ, একথাইমা, ডায়েরিয়া ইত্যাদি রোগের প্রকোপ বেশী দেখা দিতে পারে।
  • আমাদের দেশের ছাগল সাধারণত আবদ্ধ আব¯’ায় থাকতে পছন্দ করে না তাই ছাগল সংগ্রহের সাথে সাথেই সম্পূর্ণ আবদ্ধ অব¯’ায় রাখা উচিত নয়।
  • প্রথমে ছাগলকে দিয়ে ৬-৮ ঘন্টা চরিয়ে বাকি সময় আবদ্ধ অব¯’ায় রেখে পর্যাপ্ত খাদ্য (ঘাস ও দানাদার খাদ্য) সরবরাহ করতে হবে।
  • এভাবে ১-২ সপ্তাহের মধ্যে চরানোর সময় পর্যায়μমে কমিয়ে সম্পূর্ণ আবদ্ধ অব¯’ায় রাখতে হবে।
  • তবে বাচ্চা বয়স থেকে আবদ্ধ অব¯’ায় রাখলে এ ধরণের অভ্য¯’তার প্রয়োজন নেই।

ছাগল পালন সম্পর্কিত আরো বিস্তারিত পরামর্শের জন্য নিচের ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেজ সাবস্ক্রাইব করে রাখুনঃ

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *