ডিম উৎপাদনের জন্য সোনালি মুরগি পালন

খামার ব্যবস্থাপনা প্রাণিসম্পদ মুরগি পালন সোনালি মুরগি পালন

ডিম উৎপাদনে সোনালি মুরগীঃ

Image not found

বানিজ্যিকভাবে ডিম উৎপাদনের জন্য সোনালি মুরগি পালন করা অনেকগুলো ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে। বানিজ্যিকভাবে ডিম উৎপাদনের জন্য সোনালি মুরগি পালন করতে গেলে সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটা দেখা দেয় তা হলো “ইনব্রিডিং”। এই সমস্যার কারনে মুরগির ফার্টিলিটি হ্রাস পায়। ফলে ডিম উৎপাদনের হার কমে যায়। বানিজ্যিক ভাবে ডিম উৎপাদনের জন্য সোনালি মুরগি পালনে পরামর্শগুলি মনে রাখা প্রয়োজন।

  • প্রথমে এটাকে বিজনেস মনে করতে হবে। শখের বসে মুরগি পালন করতে গেলে লাভের মুখ দেখা যায় না। তাই লেয়ার পালনের মত গুরত্ব দিয়ে সোনালি মুরগি পালন করতে হবে।
  • সোনালির ক্ষেত্রে ব্রুডিং কালে “এস্পারজিলোসিস” হবার প্রবল সম্ভবনা থাকে। তাই ব্রুডিং কালে লিটারে তুঁতের পানি ছিটিয়ে ব্রুডিং করা ভালো।

  • সোনালির ক্ষেত্রে খামারীদের ভ্যাকসিন করতে এক প্রকার উদাসীন ভাব দেখা যায়। ডিম উৎপাদনের জন্য সোনালি মুরগি পালন করতে চাইলে ভ্যাকসিন করার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে লেয়ারের ভ্যাকসিনসূচি অনুযায়ী ভ্যাকসিন করতে হবে।
  • অবশ্যই সোনালি মুরগিতে ৭ থেকে ১০ দিনের মাঝে “বিক ট্রিমিং” ও ১০ থেকে ১১ সপ্তাহের মাঝে “ডিবেকিং” করতে হবে।
  • অন্যান্য বানিজ্যিক লেয়ারের মতই আলোক কর্মসূচি মেনে চলতে হবে।
  • ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের মাঝে পুরুষ ও স্ত্রী সোনালি মুরগিগুলোকে পৃথক করতে হবে। সাধারনত মুরগি গুলোর ঝুটি ও পালক দেখেই পুরুষ ও স্ত্রী সোনালি মুরগি চেনা যায়। যেহেতু উদ্দেশ্য ডিম উৎপাদন তাই পুরুষ গুলো রাখার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। অতিরিক্ত পুরুষ সোনালিগুলো চাইলে বিক্রয় করতে পারেন আবার চাইলে পালন করতে পারেন। তবে পালন করতে চাইলে অবশ্যই পৃথক শেডে পালন করতে হবে।

  • ১৪ থেকে ১৬ সপ্তাহে মুরগিগুলোকে খাঁচায় তুলতে হবে কারন সোনালি এমনিতেই কম উৎপাদনশীল তারপর ফ্লোরে পালন করলে প্রোডাকশন আরো হ্রাস পায়।
  • সোনালি মুরগি সাধারনত দৈনিক ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম খাবার গ্রহন করে। অতিরিক্ত বা কম খাবার দেয়া কোনটিই ঠিক নয়। এক্ষেত্রে ডিম পাড়া অবস্থায় মোট খাদ্যের ৪০% খাবার সকালে দিয়ে বাকি ২০% দুপুরে ও ৪০% খাবার বিকেলে দেওয়া যেতে পারে।

  • ২০ সপ্তাহ বয়সে মুরগিগুলো ডিম দেওয়া শুরু করে তখন মুরগিগুলোকে ৭ থেকে ১০ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। যে মুরগিগুলো ডিম দিচ্ছে না সেগুলোকে “cull” বা বাতিল করতে হবে। এতে একদিকে খাদ্য খরচ কমবে অন্যদিকে শতকরা উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
  • প্রতি ৪৫-৬০ দিন পর পর কৃমিনাশক ঔষধ ব্যবহার করতে হবে।

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *