ডেইরি খামার করব নাকি গরু মোটাতাজাকরণ খামার করব? – ডাঃ মোঃ শাহ-আজম খান

খামার ব্যবস্থাপনা গরু পালন গরু মোটাতাজাকরণ গরুর ফিড ফর্মুলেশন প্রাণিসম্পদ

আমি গরুর খামার করতে চাই; কিন্তু সেই খামারে আমি সরাসরিভাবে সময় দিতে পারবো না। গাভীর খামার ভাল হবে? না গরু মোটাতাজাকরণ এর খামার শুরু করা ভাল হবে?

★★ এই প্রশ্নটি অনেকেই করে থাকেন। আমি কিছু যুক্তি ও ফিল্ড অবিজ্ঞতা দিয়ে এই প্রশ্নটির কার্যকরী একটা সমাধান দিবো।

নিজের খামারে নিজেই বা বিশ্বস্ত পরিশ্রমী লোক দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব না হলে সেই খামার থেকে প্রোফিট বের করা খুবই কঠিন।
যেহেতু আপনি নিজে সময় দিতে বা তদারকি করতে পারছেন না তাই ‘গাভী পালন’ আপনার জন্য একদমই উপযুক্ত নয়।
হ্যা আপনি ‘গরু মোটাতাজাকরণ‘ করতে পারেন। কারন গাভী পালনের মত গরু মোটাতাজাকরণ বিষয়টি ততটা জটিল বিষয় নয়।

★★ গরু মোটাতাজাকরণ কি? কিভাবে করবো?
স্বল্প সময়ে ব্যালেন্স রেশন খাবার দিয়ে গরুর মাংস বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া কে গরু মোটাতাজাকরণ বলে।
সময়- ৪ মাস ( সর্বোচ্চ ৬ মাস)।
গরুর বয়স- সর্বোচ্চ ২ দাতঁ। কারন এই ১২ থেকে ৩০ মাস বয়সে গরুর বৃদ্ধি সব থেকে বেশি হয়।

-কিভাবে করবেন?
১ম- খামারে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসবেন। আপনি খামারের কর্মচারীরা ঠিকমত খাবার দিচ্ছে কি না? পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখছে কি না?ইত্যাদি সিসি ক্যামেরার মধ্যে তদারকি করবেন।

২য়- শুরুতেই বলেছি গরু মোটাতাজাকরণ বিষয়টি জটিল নয় তাই কাহারও মাথামোটা বুদ্ধিতে বিষয়টিকে জটিল করবেন না। আপনি গরু কিনে ওজন করবেন। বিক্রি করার সময়ও ওজন করেই বিক্রি করবেন।
এখানে একটু বিস্তারিত বলি-
১। গরু ক্রয় শেষ হওয়ার পর সব গরুকেই একসাথে কৃমিনাশক প্রয়োগ করবেন।
মাথামোটা রা বলবে- বোলাস/ট্যাবলেট মুখে খাওয়ানোর থেকে চামড়ার নিচে ইনজেকশন ভাল ইত্যাদি।
আমি বলবো আপনার জন্য যাহা সুবিধেজনক আপনি সেটাই করবেন। ডোজ মোতাবেক কৃমিনাশক প্রয়োগ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ অন্য কিছু নয়। ৫০ কেজি লাইভ ওজনে ১ টি বোলাস দিবেন।
কৃমিনাশক প্রয়োগের ১/২দিন পর থেকে লিভারটনিক, প্রয়োবায়োটিক ও রুচির ঔষুধ দিবেন।

  • এফএমডি (ক্ষুরাই রোগ) এর টিকা প্রদান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

২। গরুর খাবার ২ ধরনের
ক) আশঁ জাতীয় (ভিজা ও শুকনো)। যেমন- ঘাস, খড়, সাইলেজ ইত্যাদি।
খ) দানাদার। যেমন- ভূষি, কুড়া, প্যাকেট ব্যালেন্স ফিড।
ফ্যাটেনিং এর গরুতে আমরা অবশ্যই ৩% Dry Matter (DM) দৈনিক রেশনে রাখবো।
(১% কাচাঁ ঘাস+ ১% খড় + ১% ব্যালেন্স দানাদার/ফিড)
(ঘাস কম থাকলে, তখন- ০.৫% ঘাস + খড় ১.৪%+ ১.১% ব্যালেন্স দানাদার/ফিড)
( ঘাস নেই, তখন- ১.৮% খড়+ ১.২% ব্যালেন্স দানাদার/ফিড)।
ঘাস ও খড় একসাথে মিক্স করে খাওয়াবেন। যদি সম্ভব হয় পিলেট ফিডও মিক্স করে দিতে পারেন। প্যাকেট ফিড সর্বদা শুকনো খাওয়াবেন। খাবার খাওয়া শেষ হওয়ার ৩০ মিনিট পর পানি পরিবেশন করুন। পানি সবসময়ই রাখবেন যাহাতে গরু তার চাহিদামাফিক পান করতে পারে।

★★ প্যাকেট ফিড কেন ব্যবহার করবেন?
১। প্রথম কারন লুজ খাবারের চাইতে ব্রান্ড কোম্পানির খাবারে আপনি দ্রুত গরু তৈরি তথা গরু মোটাতাজাকরণ করতে পারবেন।

২। লুজ ফিডে আপনার জন্য হিসেব রাখা ও লুজ ফিড দিয়ে ব্যালেন্স রেশন করা আপনার জন্য কঠিন। আবার লোক মারফত করলে এখানে তছরুপ হওয়ার ঝুকিঁও আছে।
প্যাকেট ফিড এই ঝুঁকি অনেক কম। আপনার জন্য হিসেব রাখা অধিকতর সহজ।

৩। প্যাকেট ফিড ব্যালেন্স রেশন হয় তাই খুবই সহজে আপনি পরিমান মত ওজন অনুপাতে প্রয়োগ করতে পারবেন। যেহেতু খাবারটি পিলেট তাই শুকনো খাওয়ানো যায়। আর শুকনো দানাদার খাবার খাওয়ানো হলো বিজ্ঞানসম্মত ও বেশি কার্যকরী। লুজ খাবার হলে আপনাকে অবশ্যই ভিজিয়ে বা পানিতে গুলিয়ে খাওয়াতে হবে।

★★ খাবার কয় বেলা দিবো? কখন কোন খাবারটা দিবো?
১। গরু মোটাতাজাকরণে গাভী পালনের মত খাবার ব্যবস্থাপনা করতে যেয়ে অযথা পেরোশানি নিবেন না।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ গরুর চাহিদামাফিক খাবার কতটুকু লাগবে? আর সে খাবারটুকু সে খাচ্ছে কি না?
দিনের শুরুতে তার সারাদিনের ঘাস+খড় ২০% দিবো। সকাল ১০ টার দিকে দানাদারের ৫০% শুকনো দিবো। ১১ টার দিকো ৩০% ঘাস+খড় দিবো।
বিকেল ৩ টার দিক ৪০% ঘাস+খড় দিবো। বিকেল ৫ টায় ৫০% দানাদার খাবার শুকনো দিবো। সন্ধা ৬ টার পর ১০% ঘাস+খড় দিবো।
( প্রতি ক্ষেত্রেই পানি থাকবে পানির চাড়িতে। দানাদার খাবারের ক্ষেত্রে ৩০ মিনিট পর পানি খেতে দেওয়া ভাল)।

★★ ইউএমএস দিবো কি না?

  • ঘাস না থাকলে আপনি ইউএমএস ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু পর্যাপ্ত কাচাঁ ঘাস ও প্যাকেট ব্যালেন্স দানাদার খাবার ব্যবহার করলে করলে ইউএমএস-এর প্রয়োজন নেই।

★★ ভিটামিন কি কি ব্যবহার করবো?

  • আপনি প্রতি ৭ দিন বা ১০ দিন পর পর গরু ওজন দিবেন। গরুর ওজন যদি সঠিক ভাবেই বৃদ্ধি পায় তাহলে বাড়তি ভিটামিন ব্যবহারের কোন প্রয়োজন নেই। যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে একজন অবিজ্ঞ ক্যাটেল বিশেষজ্ঞ (ডিভিএম) এর সাথে পরামর্শ করে আপনি ভিটামিন ব্যবহার করতে পারেন।
    কিন্তু মাথামোটা দের বুদ্ধি শুনলে আপনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

পরামর্শ ও সহযোগীতা প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করতে পারেন-
ডাঃমোঃ শাহ-আজম খান
সিনিয়র- সিএসও (ক্যাটেল বিভাগ)
নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী লিমিটেড
সিরাজগন্জ রিজিওন।
Email: [email protected]
Youtube Channel: Dr.Md. Shah-Azom

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *