দ্রুত গরু মোটাতাজাকরার সহজ উপায়

দ্রুততম সময়ের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করার পদ্ধতি

খামার ব্যবস্থাপনা গরু মোটাতাজাকরণ প্রাণিসম্পদ ফিড ফর্মুলেশন সম্পাদকীয়

আজকে আমি গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতির এমন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো যেটা আমি নিজে দুইটা গরুর উপর এপ্লাই করে হাতে নাতে ফল দেখেছি এবং আপনারা যারা গরু মোটা তাজা করণ শিল্পের সাথে জড়িত তারাও প্রয়োগ বা এপ্লাই করে দেখতে পারেন। মাত্র দেড়মাস(৪৫ দিন) সময়ের মধ্যে অভুতপূর্ব ফল দেখেছি আমি!

গরু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, গরু যখন বাছাই করবেন তখন জাত এবং দৈহিক বৈশিষ্ট্য গুলি যাতে অবশ্যই ভালো হয়। অন্যথায় আশানুরূপ ফল পাবেন না।

গরু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়ঃ

গরু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে যদি আপনি কিছু বিষয় মাথায় রাখেন তবে আপনাকে বেশী বেগ পেতে বা খরচ করতে হবে না গরুকে মোটাতাজা করতে। যেমন একটা গরুর দৈহিক বৃদ্ধির জন্য কতটুকু গরুটির শক্তির (ক্যালরি) প্রয়োজন,কোন খাদ্য উপাদান গুলিতে কতটুকু শক্তি পাওয়া যায়,কি ধরনের পুষ্টিগুণ আছে ঐ সকল খাদ্য উপাদানের,গরুটিকে কি পরিমাণ এবং কি ধরনের খাদ্য সরবরাহ করতে হবে ইত্যাদি। আরেকটি মোদ্দা ব্যাপার হচ্ছে এই সকল খাদ্য হজম করতে গরুটিকে কি পরিমাণ ক্যালরি বার্ণ বা শক্তি খরচ করতে হচ্ছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং আমি দেখেছি এটার উপর দ্রুত মোটাতাজাকরণ অনেকটাই নির্ভর করে। থিওরিট্যাকালি অনেক কথাই বলা হয়ে থাকে, কিন্তু প্রাকটিক্যালি এমন অনেক কিছুই পাবেন যা থিওরির সাথে কম মিলে। যাক সেসব কথা।

গরুর ওজন নির্ণয়
দ্রুত গরু মোটাতাজাকরার সহজ উপায়

দৈহিক বৃদ্ধির জন্য একটা গরুর কতটুকু ক্যালরি বা শক্তির প্রয়োজনীয়তা পরে তার একটা স্ট্যান্ডার্ড হিসাব দেই আপনাদের।ধরে নিন ১০০০ পাউন্ড ওজনের একটা গরুর দৈনিক গড়ে ১৩ মেগা ক্যালরি শক্তির প্রয়োজন তার যথাযথ দৈহিক বৃদ্ধির জন্য। ১০০০০০০ ক্যালরি = ১ মেগা ক্যালরি।

তো,আপনি যখন গরুকে খাদ্য সরবরাহ করবেন তখন যদি এই ক্যালরির ব্যাপারটা মাথায় থাকে তাহলে অবশ্য ভালো ফল পাবেন মোটাতাজা করণের ক্ষেত্রে। আর সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে বডি মেইন্টেনেন্সে গরুর যাতে অতিরিক্ত ক্যালরি যাতে খরচ না হয়, অর্থাৎ গরুর শারীরিক অবস্থা সবসময় যাতে ঠিক থাকে।

আর সাথে সাথে এটাও খেয়াল রাখবেন, যাতে গরুর খাদ্য হজমে যাতে অতিরিক্ত ক্যালরি বার্ণ না হয়! যদি অতিরিক্ত শক্তিই খরচ হয়ে যায় গরুর আহরিত খাদ্য হজম করতে তবে আহরিত খাদ্য খেয়ে গরুর দৈহিক বৃদ্ধি হবে না তা আগের অবস্থায় থেকে যাবে বা সামান্য ওজন বাড়বে। তাই গরুকে সরবরাহ করা খাদ্য সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর অথচ সাশ্রয়ী হতে হবে! আর এটাই গরু মোটাতাজাকরণকে বাণিজ্যিক ভাবে লাভজনক করবে।

আমি যে দুইটা গরুর উপর ৪৫ দিন পর্যবেক্ষণ করেছি তাদের খাদ্য হিসাবে দেয়া হয়েছিল দৈনিক ২.৫ কেজি দানাদার খাদ্য। যার মধ্যে ছিল ৪০% ভুট্টার কণা,২০% গমের ভুষি,২০% এংকর ডালের কণা ১০% এংকর ডালের খোসা এবং ১০% দেশী শ্যালোমিল থেকে সংগ্রহ করা চালের কুরা। তবে এই দানাদার খাদ্যের সংমিশ্রণগুলিকে ভাপে সিদ্ধ করে পরিবেশণের সময় সামান্য রাবগুড় বা মোলাসেস এবং লবণ ও জিংক,ডিসিপি মিশিয়ে খেতে দেয়া হয়েছিল। ওরালি এডিই৩ নিয়মিত দেয়া হত দুই ফোটা /লিটার পানিতে। পর্যাপ্ত সাদা পরিষ্কার পানি এবং প্রতিটি গরুকে ১০-১২ কেজি কাঁচা ঘাস দেয়া হয়েছিল। মাঝে মধ্যে খড় দেয়া হয়েছিল। তবে সবচাইতে কার্যকর ছিল ভাপে সিদ্ধ করে খাবার সরবরাহ করাটা। এটা করাতে গরু তার খাবার সহজেই হজম করতে পারতো, ফলে সেটার উপকারীতা চোখে পড়ার মত ছিল।

মনে রাখতে হবে যে খাবার সরাসরি সিদ্ধ করে দেয়া যাবে না, ভাপে সিদ্ধ করতে হবে। এটা করার সহজ উপায় হল একটা পাত্রে পানি নিয়ে তা চুলায় দিতে হবে এবং এর উপর একটা চালুনি রেখে তাতে দানাদার খাদ্য গুলি রাখবেন। নীচের গরম পানি থেকে সৃষ্ট বাষ্প চালুনির মধ্যে থাকা খাদ্য গুলি সিদ্ধ করবে। একদম সিদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন নেই, আধা সিদ্ধই যথেষ্ট! সরাসরি সিদ্ধ করলে খাদ্য উপাদানে থাকা অনেক ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায় এবং খাদ্যের পুষ্টিগুণ কমে যায়! আব বাষ্পায়িত বা স্টীমড করা খাদ্য হজম করা গরুর জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যায় এবং এতে খাদ্যের মধ্যে থাকা ভিটামিন ও খাদ্যের পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে। ফলে গরু যথাযথ শক্তি পায় ঐ খাদ্য থেকে।

ভাপ সৃষ্টির মাধ্যমে খাদ্য সিদ্ধ করার ডায়াগ্রাম

দুইটি গরুর একটির প্রথম দিনের ওজন(লাইভ ওয়েট) ছিল ১৬৭ কেজি যার ওজন ৪৫ দিন পর হয়েছিল ২০৫ কেজি। অর্থাৎ, ওজন বেড়েছে ৩৮ কেজি এবং এটি ছিল দুই দাঁতের একটি দেশাল গরু!রঙ ছিল কালচে বাদামী।

দ্বিতীয় গরুটির প্রথম দিনের ওজন(লাইভ ওয়েট) ছিল ১৬৫কেজি যার ওজন ৪৫ দিন পর হয়েছিল ২১১কেজি। অর্থাৎ, ওজন বেড়েছে ৪৬ কেজি এবং এটি ছিল দুই দাঁতের লাল রং এর একটি ভালো মানের শাহীওয়াল ক্রস ষাঁড় গরু।

এখানে একটা কথে বলে নিই গরুগুলি হাট থেকে আনার সাথে সাথে কোয়ারেন্টাইন করে তার পরের দিনই এন্ডেক্স ক্রিমিনাশক ওষুধ ও পরবর্তীকালে লিভারটনিক দেয়া হয়েছিল। এরপর FMD, Anthrax ভেক্সিন গুলি দেয়া হয়েছিল।এর বাহিরে অন্য কোন ওষুধপাতি বা ভিটামিন দেয়া হয় নি।

লেখকঃ মুক্তি মাহমুদ ভাই।

আরো পরামর্শ পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল টি সাবস্ক্রাইব করুনঃ

<<<সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন>>>

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *