মুরগির ১ দিনের বাচ্চার ব্রুডিং করার নিয়ম

কোয়েল পালন টার্কি পালন দেশি মুরগি পালন প্রাণিসম্পদ ব্রয়লার মুরগি পালন মুরগি পালন লেয়ার মুরগি পালন সোনালি মুরগি পালন হাঁস পালন

মুরগীর ব্রুডিং ব্যবস্থাপনাঃ

জার্মান শব্দ ব্রুড  (brood) থেকে ব্রুডিং (brooding) শব্দটি এসেছে। যার অর্থ তাপ দেওয়া। বাচ্চাঅবস্থায় মুরগী তার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কারণ এই সময়ে তাদের তাপনিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গগুলো পরিপুর্ণতা লাভ করে না এবং পালকগুলো বিকশিত না হওয়ায় তাপ ধরে রাখতে পারে না। তাই মুরগীর বাচ্চার তাপনিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গগুলো পরিপুর্ণতা লাভ করা পর্যন্ত তাপ দেওয়া হয়। একদিনের বাচ্চাকে কৃত্রিম উপায়ে তাপ দিয়ে লালন পালন করাকে ব্রুডিং বলে। বাচ্চার সঠিক ব্র“ডিং করার উপর মুরগী পালনে সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে। শীতকালে কতগুলো মুরগী একসাথে ব্রুডিং করা উচিতঃ আমাদের দেশে অধিকাংশ খামারী সাধারণত: বৈদ্যুতিক লাইট দিয়ে ব্রুডিং করে থাকে। শীতকালে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে শুধুমাত্র বিদ্যুতের সাহায়্যে সঠিকভাবে ব্রুডিং করা যায় না। বৈদ্যুতিক লাইট দিয়ে গরমকালে একটা হোভারের নীচে ৮০০-১০০০ বাচ্চা এক সাথে ব্রুডিং করা যায়। কিন্তু শীতকালে ১০০০ বাচ্চা এক সাথে ব্রুডিং করলে পর্যাপ্ত তাপ পায় না। ফলে মুরগী বাচ্চার বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। তাই শীতকালে বৈদ্যুতিক লাইট দিয়ে ব্রুডিং করলে একটা হোভারের নীচে ৩০০-৫০০ বাচ্চা এক সাথে ব্রুডিং করা উচিত। শীতকালে কত দিন ব্রুডিং করা উচিত ঃ ব্রুডিং এর সময় কতদিন তাপ দিতে হবে তা নির্ভর করে স্থান, কাল এবং আবহাওয়ার উপর।সাধারণতঃ শীতকালে ৩ – ৪ সপ্তাহ মুরগীর বাচ্চাকে তাপ দেওয়া হয়। ব্রুডারের তাপমাত্রা সঠিক আছে কিনা তা কিভাবে বুঝবঃ ব্রুডারের তাপমাত্রা সঠিকআছে কিনা তা বাচ্চার আচরণ দেখে বুঝে নিতে হবে। বাচ্চার আচরণ দেখে ব্রুডিং তাপমাত্রা বুঝার উপায়-

১. তাপমাত্রা কম হলে বাচ্চা গুলি ব্রুডারের নীচে গাদাগাদি হয়ে থাকবে এবং কিচিরমিচির করবে। তাপমাত্রা কম থাকায় বাচ্চা গুলি ব্রুডারেরনীচে গাদাগাদি হয়ে আছে।

২. তাপমাত্রা বেশী হলে বাচ্চা গুলি চিকগার্ডের গা ঘেষে জমা হয়ে থাকবে এবং মুখ হা করে নিঃশ্বাস নিবে এবং মাথা ও ডানা ঝুলে পড়বে।

৩. তাপমাত্রা সঠিক থাকলে বাচ্চা গুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে, চঞ্চল মনে হবে, মৃদু শব্দ

করবে এবং স্বাভাবিকভাবে খাদ্য ও পানি গ্রহণ করবে।

চিত্র-২: তাপমাত্রা সঠিক, তাই বাচ্চা গুলি চিকস গার্ডের ভিতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

ব্রুডার ঘরের তাপমাত্রাঃ

বয়স          ফারেনহাইট        সেলসিয়াস

প্রথম সপ্তাহ     ৯৫ ফাঃ             ৩৫ সেলঃ

দ্বিতীয় সপ্তাহ    ৯০ ফাঃ            ৩২ সেলঃ

তৃতীয় সপ্তাহ    ৮৫ ফাঃ            ২৯ সেলঃ

চতুর্থ সপ্তাহ     ৮০ ফাঃ            ২৬ সেলঃ

শীতকালে কিভাবে ভাল ব্রুডিং করা যায়ঃ

১. ঘরের উপরের দিকে ১ -১.৫ ফুট জায়গা ফাঁকা রেখে ঘরের পর্দা দিয়ে সমস্ত ঘর ঢেকে দিতে হবে। ব্রড়িং এর সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনের জন্য ঘরের উপরের দিকে ফাঁকা স্থানে এবং দরজার নেটে পর্দা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ব্র“ডিং এর সময় প্রতি ৪-৫ ঘন্টা পর পর পর্দা উঠিয়ে ঘরের কার্বন-ডাই অক্সাউড যুক্ত বাতাস বের করে দিতে হবে এবং অক্সিজেনযুক্ত বাতাস ঘরে প্রবেশ করাতে হবে।

২. বাচ্চা আসার দুই দিন আগে ঘরের মাঝখানে চিকগার্ড স্থাপন করে তার ভিতর ২-৩ ইঞ্চি পুরু করে ধানের তুষ বিছাতে হবে।

৩. চিকগার্ডের মাঝখানে হোভার টানিয়ে প্রতি বাচ্চার জন্য ২ ওয়াট হিসাবে বৈদ্যুতিক বাতি হোভারের সাথে স্থাপন করতে হবে। চিকগার্ডের চারদিকে চিকগার্ড থেকে ৩ ফুট দূরে পর্দা টানিয়ে দিতে হবে।

৪. চিকগার্ডের ভিতর ধানের তুষের উপর খবরের কাগজ বা ছালার চট বিছিয়ে দিতে হবে এবং খবরের কাগজ বা ছালার চটের উপর চিক ফিডার (প্রতি ৫০টি বাচ্চার জন্য ৩০ ইঞ্চি লম্বা ১টি চিকস ফিডার) এবং চিক ড্রিংকার (৫০টি বাচ্চার জন্য ২ লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ছোট চিক ড্রিংকার) দিতে হবে।

৫. ঘরের সিলিং এর সাথে ১ ওয়াট/৫ বর্গফুট হিসাবে বৈদ্যুতিক বাতি দিতে হবে যেন মুরগীর বাচ্চা খাদ্য ও পানি ভালভাবে দেখতে পারে।

৬. বাচ্চা আসার কমপক্ষে ১২ ঘন্টা আগে গ্যাস ব্রোডার বা হোভারের বাতি চালু করে ব্রোডারের নীচের কাগজ বা ছালার চট গরম করতে হবে।

৭. ব্র“ডারে বাচ্চা ছেড়ে দেওয়ার পর বাচ্চার আচরণ পরীক্ষা করতে হবে এবং দুর্বল ও অসুস্থ বাচ্চা থাকলে তা আলাদা করে ব্রুডিং করতে হবে।

৮. প্রথম ২-৩ ঘন্টা শুধু ফুটানো হালকা গরম পানি খাওয়ার পর চিনি বা গ্লুকোজ, ভিটামিন-সি, ইলেকট্রোলাইট মিশ্রিত পানি দিতে হবে।

৯. বাচ্চা ব্রুডারে ছেড়ে দেওয়ার ৩-৪ ঘন্টা পর ব্রয়লার র্স্টাটার ফিড দিতে হবে।

১০. প্রতি দুই ঘন্টা পর পর বাচ্চার তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে, বিশেষভাবে রাতে ও সকালবেলা অবশ্যই বাচ্চার তাপমাত্রা ঠিক আছে কি-না তা পরীক্ষা করতে হবে এবং প্রতিটি বাচ্চা গ্যাস ব্রোডার বা হোভারের নীচে যায় কি-না তা লক্ষ্য করতে হবে।

১১. যদি তাপমাত্রা কম থাকে তাহলে হ্যাজাক বা স্টোভ বা বৈদ্যুতিক হিটার বা কয়লার আগুন হোভারের নীচে রেখে তাপমাত্রা বাড়াতে হবে। কিন্তু ফার্মে যেন পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল করে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে

১২. প্রথম ১০ দিন লিটার হিসাবে কাঠের গুড়া ব্যবহারনা করে ধানের তুষ ব্যবহার করতে হবে। ব্রুডারে কিভাবে তাপমাত্রা বাড়ানো যায়। যদি ব্রুডারে তাপমাত্রা কম থাকে তাহলে নিুলিখিত উপায়ে তাপমাত্রা বাড়ানো যায়। যেমন-

১. বৈদ্যুতিক হিটারঃ হোভারের ঠিক নীচে তুষের উপর ইট রেখে ইটের উপর হিটার (১০০০-৩০০০ ওয়াটের কয়েল) বসিয়ে দিতে হবে। হিটারের আগুনে যেন বাচ্চা মারা না যায় সেজন্য হিটারের উপর তারের জাল বসিয়ে দিতে হবে।

২. হ্যাজাক লাইট বা কেরোসিনের স্টোভঃ ব্রুডারে তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য বৈদ্যুতিক বাল্বের সহযোগি হিসাবে হ্যাজাক লাইট বা কেরোসিনের স্টোভ ব্যবহার করা যায়। তবে এক্ষেত্রে ব্রুডারে যেন ধোঁয়া না হয় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *