শীতকালে লেয়ার মুরগির খাদ্য প্রদানের আদর্শ নিয়ম

খামার ব্যবস্থাপনা প্রাণিসম্পদ মুরগি পালন লেয়ার মুরগি পালন

১. #খাদ্যের_পরিমান
শীতকালে মুরগীর শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্য বাড়তি এনার্জির দরকার পরে। এই বাড়তি এনার্জির সরাবরাহ করার জন্য শীতকালে মুরগী যে পরিমান খাদ্য খায় তার থেকে একটু এক্সট্রা খাদ্য দিতে হয়। যদি শীতকালে এই এক্সট্রা খাদ্য প্রদান করা না হয় তবে মুরগীর ডিমের পরিমান ও সাইজ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি মুরগীর ওজনও হ্রাস পাবে। তাই প্রোডাকশন, ডিমের সাইজ ও মুরগীর ওজন ঠিক রাখার জন্য শীতকালে মুরগীকে বাধ্যতামূলক কিছু এক্সট্রা খাদ্য দেয়া উচিত। সাধারনত শীতকালে মুরগীতে স্বাভাবিক খাদ্যের পাশাপাশি ৩-৫ গ্রাম এক্সট্রা খাদ্য দেয়া হয়। তবে এই এক্সট্রা খাদ্য দেবার একটা সুন্দর সূত্র আছে। সাধারনত শীতকালে ১৮-২০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে প্রতি ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাসের বিপরীতে ১% খাদ্য এক্সট্রা দিতে হবে। অর্থাৎ মুরগীর স্বাভাবিক খাদ্য যদি ১১২ গ্রাম/দিন হয় আর শেডের তাপমাত্রা যদি ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস হয় তবে শীতকালে প্রতিটি মুরগীকে নিচের নিয়মে খাদ্য দিতে হবে-
অর্থাৎ,
(১১২১%)(১৮-১৫)
=১.১২*৩
=৩.৩৬ গ্রাম এক্সট্রা খাদ্য দিতে হবে।
(তাপমাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে এক্সট্রা খাদ্যের পরিমানেরও হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটবে)

২. #খাদ্যপ্রদানেরসময়
লেয়ার মুরগীকে ৩-৪ বেলা খাদ্য দেবার পরিবর্তে ২ বেলা খাদ্য দেয়া ভাল। এক্ষেত্রে প্রথমবার ভোরে শেডে আলো জ্বালিয়ে দেবার পরপরেই (৫.০০-৫.৩০ এর মধ্যে) খাদ্য প্রদান করতে হবে আর দ্বীতিয়বার বিকালে (৩.০০-৩.৩০ এর মধ্যে) খাদ্য প্রদান করতে হবে। মনে রাখতে হবে রাতে লাইট বন্ধ করার ৬-৭ ঘন্টা আগেই বিকালের খাদ্য প্রদান করতে হবে। সকালের খাদ্য দুপুর ১.০০-২.০০ টার মধ্যে শেষ হয়ে গেলেও সাথে সাথে খাদ্য না দিয়ে বিকাল না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

৩. #খাদ্যপ্রদানেরঅনুপাত
লেয়ার মুরগীকে মোট খাদ্যের ৪০% ভোরে বা সকালে খাদ্য প্রদান করতে হবে আর বাকী ৬০% খাদ্য বিকালে প্রদান করতে হবে। যেহেতু শীতকালে দিনের চেয়ে রাতে তাপমাত্রা বেশি কমে যায় তাই বিকালে বেশী খাদ্য প্রদান করলে তা রাতে মুরগীর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে। পাশাপাশি মোট খাদ্যের ৬০% খাদ্য বিকালে প্রদান করলে ডিমের সাইজ, প্রোডাকশন পার্সেন্টেজ বৃদ্ধি পায় ও মুরগীর শরীরে ফ্যাট ডিপোজিশন হয়ে মুরগী অত্যাধিক মোটা হয়ে যায় না।

৪. #আলোক_কর্মসূচী
শীতকালে দিনের পরিমান কমে যায় ফলে প্রাকৃতিক বা সূর্যের অলোর পরিমানও কমে যায়। অনেক সময় কুয়াশার জন্য সূর্যের আলো অনেক পরে দেখা যায়। তাই শীতকালে সূর্যের আলোর আশায় না থেকে ভোরে একটা নির্দিষ্ট সময় ফিক্সড করে বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে আলো প্রদান করতে হবে। উদাহরন স্বরূপ সূর্যের অলো কখন দেখা যায়, না যায় সেটার আশায় না থেকে ভোর ৫ টার সময় শেডে বাল্ব জ্বালিয়ে দিবেন। তারপর সূর্যের আলো দেখা দিলে বাল্ব বন্ধ করে দিবেন। এবং সুর্য ডোবার পর পুনরায় বাল্ব জ্বালিয়ে দিয়ে রাত ৯ টায় পুনরায় বাল্ব বন্ধ করবেন। এভাবে মোট ১৬ ঘন্টা আলো প্রদান করতে হবে।

ক্রেডিটঃঃ ডাঃ শুভ দত্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *