সম্ভাবনাময় গাড়ল পালনের বিস্তারিত

গাড়ল পালন প্রাণিসম্পদ

গাড়লের বাসস্থানঃ

গাড়ল পালনের জন্য সঠিক বাসস্থান একটি অতীব গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়। এটার উপর লাভক্ষতি , উৎপাদন , গাড়লের পরিচর্যা , রোগাক্রান্ত হওয়ার হার ইত্যাদি নির্ভর করে।

আমাদের দেশের আবহাওয়ায় গাড়লের বাসস্থানের জন্য খোলামেলা ও উচু স্থান নির্বাচন করা উচিত ।

 রোদ-বৃষ্টি – ঝড় ইত্যাদির হাত থেকে রক্ষা করা , বিশ্রাম , খাদ্য প্রদান , সঠিক প্রজনন নিশ্চিতকরণ , মলমূত্রের সুষ্ঠ নিস্কাসনের ব্যবস্থা। ইত্যাদি বন্দোবস্ত করে গাড়লের জন্য ঘর তৈরী করতে হবে।

ঘরে মাচার উপর গাড়ল থাকার ব্যবস্থা করতে হবে মাচা তৈরী সম্ভব না হলে , মেঝেতে শুকনো খড়ের বিছানা দিতে হবে।

শীতকালে মাচাতেও খড়ের বিছানা দিতে হবে। বিশেষকরে বাচ্চা কে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে হবে,ভেজা খর শুকিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।

গাড়লের জন্য আদর্শ বাসস্থানের বৈশিষ্টঃ 

  • গাড়লের ঘর উচু ও খোলামেলা জায়গায় হতে হবে।
  • পানি নিস্কাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে।
  • আরামদায়ক হতে হবে।
  • ঘরের দক্ষিণ ও পূর্ব দিক হতে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
  • বর্জ্য নিস্কাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকবে।
  • সহজলভ্য ও সস্তা নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে।
  • ঘরের মাঝে বেড়া বা পার্টিশন দিয়ে গর্ভবতী গাড়ল বা ছোট বাচ্চা কে আলাদা রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
  • যাতে করে প্রসব পূর্ব ও প্রসব পরবর্তী যত্ন ও সেবা দেয়া যায়।

গাড়লের খাদ্যঃ

গাড়ল চরে খেতে পছন্দ করে। তবে আবদ্ধ অবস্থায়ও বাহির থেকে (ঘাস/দানাদার) খাদ্য সরবরাহ করে পালন করা যায়। ছাগলের মতোই লতা ও গুল্ম জাতীয় গাছের পাতা এরা খুব পছন্দ করে। শুকনো ও সংরক্ষিত ঘাস এবং দানাদার খাদ্য এরা খেয়ে থাকে। এমনকি খাদ্যের অভাব দেখা দিলে গাড়ল খড় ও নাড়া খেয়ে থাকতে পারে।

পাঠা গাড়লের খাদ্য  পাঠা গাড়ল কে পর্যাপ্ত পরিমান কাচা ঘাস দিতে হবে। একটি প্রাপ্ত বয়স্ক পাঠাকে দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম আমিষ সমৃদ্ধ দানাদার খাদ্য দিতে হবে। প্রজননের জন্য ব্যবহৃত পাঠাকে দৈনিক ১০ গ্রাম অঙ্কুরিত ছোলা দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। কাচা ঘাসের পরিমান কম হলে বছরে অন্তত ২ বার ভিটামিন এ.ডি.ই. ইনজেকশন ২ থেকে ৩ মি.লি. করে দিতে হবে। পাঠাকে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য দেয়া যাবে না।

বাড়ন্ত গাড়লের জন্য একটি আদর্শ খাদ্য তালিকাঃ

গাড়লের ওজন (কেজি) দানাদার খাদ্য (গ্রাম) ঘাস সরবরাহ (কেজি)
৪ কেজি ওজনের জন্য ১০০ ০.৫
৬ কেজি ওজনের জন্য ১৫০ ০.৮
৮ কেজি ওজনের জন্য ২০০ ১.০
১০ কেজি ওজনের জন্য ২৫০ ১.৫ থেকে ২.০
১২ কেজি ওজনের জন্য ৩০০ ২.০ থেকে ২.৫
১৪ কেজি ওজনের জন্য ৩৫০ ২.৫ থেকে ৩.০
১৬ কেজি ওজনের জন্য ৪০০ ৩.০ থেকে ৩.৫
১৮ কেজি+ ওজনের জন্য ৪৫০ ৩.৫ থেকে ৪.০

আমাদের দেশে চারণভূমি , খামারির সামর্থ্য, খামারের ধরন ও অন্যন্য সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন ভাবে গাড়ল পালন করা যায়। যেমন –

. অধানিবিড় (সেমি ইনসেনটিভ ) খামার

এ ধরনের খামারে, খামারিগণ এককভাবে বা গরু-ছাগলের সাথে মিশ্রভাবে অল্প সখ্যক গাড়ল পালন করেন। রাতে আলাদা ঘরে বা গরুর সঙ্গে রাখা হয়। দিনে ফসলের খালি মাঠ, রাস্তা বা বাধের ধারে, গাছের বাগানের মধ্যে ছেড়ে বা বেধে পালন করা হয়। সকালে বা সন্ধ্যায় কখনো কখনো সামান্য কুড়া, ভুসি ও ভাতের মাড় দেয়া হয়।

. সম্পুর্ন ছেড়ে পালা ক্ষুদ্র বানিজ্যিক খামারঃ 

এ ধরনের খামার অধা-নিবিড় খামারের মতোই। তবে এ রকমের খামারে গাড়লের সংখ্যা বেশি থাকে। খামারি মূলত বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে গাড়ল পালন করে থাকেন। এ ধরনের খামারে সাধারনত সুনির্দিস্ট কোনো খাদ্য ব্যবস্থাপনা নেই। সাধারনত মাঠে চরানোর মাধ্যমেই গাড়লের খাদ্য চাহিদা মেটানো হয়।

.অধানিবিড় বানিজ্যিক খামার

অপেক্ষাকৃত সচ্ছল খামারিগণ অধানিবিড় বানিজ্যিক খামারে ১০০ থেকে ১৫০ গাড়ল পালন করেন এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করা হয় আবার মাঠেও চরানো হয়।

. নিবিড় পালন ব্যবস্থা

এ ধরনের খামার ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ বদ্ধভাবে গাড়ল পালন করা হয়। এক্ষেত্রে খামারিদের ঘাস চাষ করতে হয়, ঘাস কেটে আনতে হয় ও অন্যান্য খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হয়।এ ধরনের খামারে যথাযথ আবাসন ব্যবস্থা , পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ,সুষ্ঠ খাদ্য ব্যবস্থাপনা একান্ত জরুরি।

গাড়লের প্রজনন ব্যবস্থাপনা :

  • গাড়ল সাধারনত ১৮০ দিন বয়সের মধ্যে প্রথম বাচ্চা ধারণ করে।
  • গাড়লের হৃতুচক্র ১৩ থেকে ১৯ দিন বা গড়ে ১৭ দিনে সম্পন্ন হয়।
  • গাড়লের গরমকাল বা হিট পিরিয়ড ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
  • গরম হওয়ার ১২ থেকে ১৮ ঘন্টার মধ্যে প্রজনন করাতে হবে।
  • গর্ভধারণ কাল ১৪৫ থেকে ১৫০ দিন।

গর্ভবতী গাড়লের পরিচর্যা :

  • গর্ভাবস্থার প্রথম পর্যায়ে গাড়ল কে কোনো কৃমিনাশক খাওয়ানো যাবেনা।
  • গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে গাড়ল কে নরম বিছানা দিতে হবে।
  • গর্ভবতী গাড়লকে আলাদা রাখতে হবে।
  • গর্ভবতী গাড়লকে পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাদ্য প্রদান করতে হবে।
  • গমের ভুষি, কাচা ঘাস , তিলের খৈল , ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন প্রিমিক্স।

বাচ্চার পরিচর্যা যত্ন :

  • বাচ্চা প্রসবের সময় গাড়ল কে শুকনো , পরিচ্ছন্ন ও আলো বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখতে হবে।
  • বাচ্চার শরীর যাতে মা – গাড়ল চেটে পরিস্কার করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এতে বাচ্চার শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত চালুর জন্য সহায়ক হয়। মা যদি দুর্বলতা বা অন্য কোনো কারণে বাচ্চার শরীর চাটতে না পারে, তাহলে পরিস্কার নরম সুতি কাপড় দিয়ে বাচ্চার নাক-মুখ মুছিয়ে দিতে হবে। না হলে শ্বাস রুদ্ধ হবার ঝুকি থাকে। আর যদি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েই যায় , সেক্ষেত্রে বাচ্চার বুকের পাজরে আস্তে আস্তে কিছুক্ষণ পর পর চাপ প্রয়োগ করলে শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসবে। প্রয়োজনে নাকে-মুখে ফু দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • বাচ্চার জন্মের পর গোসল করানো যাবেনা , এতে বাচ্চার ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে পারে।
  • অবশ্যই বাচ্চার নাক, মুখ, পায়খানা-প্রস্রাবের রাস্তা ও নাভির স্থানে ফোলা আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এগুলোর কোনো একটিতে ত্রুটি দেখা গেলে, অতিসত্তর নিকটস্থ ভেটেরিনারি হাপাতালে / ভেটেরিনারি সার্জনের পরামর্শ মতো চিকিৎসা দিতে হবে।
  • জন্মের পর থেকে শুরু করে নাভি না শুকানো পর্যন্তু ( ৭ থেকে ১৪ দিন ) বাচ্চার নাভিতে তুলা দিয়ে টিংচার আয়োডিন বা জেনসণ ভায়োলেট লাগাতে হবে। যদি নাভি ফুলে পুজ জমে তাহলে অবশ্যই জীবানুনাশক ( যেমন – পটাশিয়াম ম্যাঙ্গানেট , স্যাভলন ২.৫% ইত্যাদি ) নির্দেশিত মাত্রায় ফুটানো ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে নাভি পরিস্কার করতে হবে।এছাড়া ক্ষত স্থানে দিনে ২ -৩ বার নেবানল পাউডার লাগাতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অথবা ওষুধের নির্দেশিকা অনুসারে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ( যেমন- প্রোনাপেন , পেনিসিলিন , পেনবাসিলিন , প্রোনাসিলিন ইত্যাদির যেকোনো একটি ) ৩ থেকে ৫ দিন মাংসে প্রয়োগ করতে হবে।
  • জন্মের ৪ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চাকে মায়ের বাটে মুখ লাগিয়ে অবশ্যই শাল দুধ পান করাতে হবে। কমপক্ষে ৩ দিন পর্যন্ত শালদুধ পান করানো আবশ্যক। শালদুধে পর্যাপ্ত পরিমানে রোগ প্রতিরোধী উপাদান থাকে। ঠিকমত শালদুধ না খাওয়ালে বাচ্চা বিভিন্ন রোগে সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া বাচ্চা দুধ টেনে খেলে মা – গাড়লের গর্ভফুল ৮-১২ ঘন্টার মাঝে পরে যায়।

গাড়লের প্রজনন কালীন পরবর্তী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাঃ

গর্ভধারণের কিছু সমস্যার কারণে অনেক সময় গাড়লের বাচ্চা উত্পাদনের প্রত্যাশিত লক্ষ্য ব্যাহত হয়। সময়মতো গর্ভধারণ ও বাচ্চা উৎপাদনের সাথে লাভ – ক্ষতির সম্পর্ক রয়েছে। প্রসবের পর যেন পুনরায় সময়মতো গর্ভধারণ করে তা নিশ্চিত করতে হবে। দেখা যায় বাচ্চা প্রসবের দু-তিন মাস পরেও কিছু গাড়ল গর্ভধারণ করে না। অপুষ্টি, কৃমির আক্রমণ ও প্রজনন ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি, প্রসবের আগে ও পরে সুষম খাদ্য না খাওয়ানো, জননাঙ্গে সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া, ইত্যাদি কারণে এমনটা হতে পারে। গাড়ল ডাকে আসলে সঠিক সময়ে প্রজনন করানো উচিত।

 প্রসবের পর সমস্যা : খুব সামান্য ক্ষেত্রে বাচ্চা প্রসবের পর কোনো কোনো গাড়লের জরায়ু বাইরে বেরিয়ে আসে। এ সমস্যা বাচ্চা প্রসবের ৪ – ৬ ঘন্টার মধ্যে দেখা যায়। প্রসবের সময় হ্যাচকা টান দিয়ে বাচ্চা বের করা হলে এমনটি হতে পারে। বয়স্ক গাড়লের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে বেশি। গর্ভের সময় ক্যালসিয়ামের অভাব থাকলেও এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরবর্তিতে মা – গাড়লের জরায়ুতে প্রদাহ দেখা দেয় এবং গর্ভধারণ বিলম্বিত হয়।

এ ক্ষেত্রে , শরীরের তাপ পরীক্ষা করে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলে খুব ধীরে , সতর্কতার সাথে ৩০-৫০ মি.লি. ক্যালসিয়াম বরেগ্লুকনেট ,ক্যালডিম্যাক , কোপাক্যালসিয়াম , ক্যাজেসন , ক্যালসিনেট অথবা ক্যালসির যেকোনো একটি ইনজেকশন শিরায় প্রয়োগ করতে হবে। এর সাথে ১-২ আই .ইউ. অক্সিটোসিন (যেমন – অক্সিন, ইন্টাটোসিন-এস ,পিটন-এস অথবা হিন্টোসিনিনের যেকোনো একটি) ইনজেকশন মাংসে প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। গর্ভবতী গাড়লকে প্রতি কেজি খাবারের সাথে নির্দেশিত পরিমানে এমবাভিট ডিবি, ক্যালফসটনিক পাউডার , মিনোভিট সুপার ,বায়োমিক্স ডিবি, ভিটামিক্স ডিবি, রেনাভিট ডিবি, ডিবি ভিটামিন পাউডার , ইত্যাদির যেকোনো একটি মিশিয়ে খাওয়ানো হলে প্রসবকালীন বা প্রসবোত্তর জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এছাড়া ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ডি খাবারের সাথে নির্দেশিত মাত্রায় খাওয়ানো যায়।

গাড়লের কতিপয় রোগ ও প্রতিরোধঃ

খামারের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, রোগ প্রতিরোধের প্রথম শর্ত। তাই খামারে সকল সময় পরিচ্ছন্ন, খোলামেলা ও পর্যাপ্ত আল-বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। গাড়লের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো। তবে বানিজ্যিক খামারে নিয়মিত টীকা প্রদান জরুরী। মোটামুটি নিয়মানুযায়ী ৩ টি টীকা প্রদান করলে, রোগ-বালাই থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকা সম্ভব।

টীকার নাম পরিমান প্রয়োগ পদ্ধতি
পিপি আর ১ মিলি চামড়ার নিচে ইনজেকশন
ক্ষুরা রোগ ২ মিলি চামড়ার নিচে ইনজেকশন
এন্থ্রাক্স ১ মিলি চামড়ার নিচে ইনজেকশন

পিপিআর

ছাগলের ও গাড়লের একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগ অত্যন্ত ছেঁয়াচে এবং প্রাদুর্ভাব এলাকায় শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ছাগল এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে ভেড়ার চেয়ে ছাগল এ রোগে বেশি সংবেদনশীল। এ রোগে আক্রান্ত ছাগলের মৃত্যুর হার শতকরা ৫০-৮০ ভাগ। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সব বয়সের ছাগল এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে, এক বছর পর্যন্ত বয়সের ছাগল এ রোগে বেশি মারা যায়। উচ্চ তাপমাত্রা, পাতলা পায়খান (ডায়রিয়া), পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট (সর্দ্দি) মুখে ঘা এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য। পোষ্টমর্টেম পর্যবেক্ষণে ক্ষুদ্রান্ত্রে জেব্রা ষ্ট্রাইপিং (Zebra Striping) দেখা যায়।

মাষ্টার সীডঃ লোকাল (শহীদ টিটো) ষ্ট্রেইন।

অরিজিনঃ বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাভার, ঢাকা।

ব্যবহার বিধিঃ প্রতি ভায়ালে টিকা ১০০ এমএল ডাইল্যুয়েন্টের সাথে গুলানোর পর প্রতি পশুকে ১ এম এল করে গলার চামড়ার নীচে প্রয়োগ করতে হয়। ৪ মাস বয়সের পশুকে এ টিকা দেওয়া হয়, তবে ২ মাস বয়সের পশুকেও এ টিকা দেওয়া যায়। তবে সেক্ষেত্রে ৬ মাস বয়সে পুনরায় (বুষ্টার) টিকা প্রয়োগ করতে হয়। এই টিকার কার্যকাল ১ বছর।

 সরবরাহ : প্রতি ভায়ালে ১০০ মাত্রা টিকা + ১০০ এম এল ডাইল্যুয়েন্ট।

 মূল্য : প্রতি ভায়ালঃ ৫০ টাকা।

গোটপক্সঃ

গোটপক্স একটি ভাইরাস জনিত রোগ। গোটপক্স মৃদু ও মারাত্মক প্রকৃতির হয়ে থাকে। আক্রান্ত ছাগলের দেহের লোমহীন ত্বকে বিশেষ করে লেজের নীচে এবং ওলানের আশেপাশে গুটি দেখা যায়। এ রোগে ছাগলের উচ্চ তাপমাত্রা (জ্বর), শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, লোমহীন ত্বকে বিশেষ করে নাকের বহির্ভাগ (মাজল), মুখগহবরে ও ওলানের আশেপাশে ক্ষত দেখা দেয়। এ রোগে ছাগলের চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এ রোগে বাচ্চা ছাগলের মৃত্যুর হার ৮০% থেকে ১০০% হয়ে থাকে। সুপ্তিকাল ২-১৪ দিন।

ভাইরাসজনিত এ রোগে তাৎক্ষণিক ক্ষতি কম হলেও ভেড়ার চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। বয়স্ক ভেড়ার চেয়ে এ রোগে বাচ্চা ভেড়ার মৃত্যুর হার বেশি। এ রোগ দ্রুত ছড়ায়।

লক্ষণঃ  বাচ্চা ভেড়াতে এ রোগ মারাত্মক আকারে দেখা যায়। আক্রান্ত বাচ্চার ঝিমুনি, নিস্তেজ ভাব, জ্বর ও নাক দিয়ে পানি পড়তে দেখা যায়। আবার রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই বাচ্চা মারা যেতে পারে। বয়স্ক ভেড়ার ক্ষেত্রে পায়ুপথ ও মুখের চারপাশে, মুখ গহবরে, কানে ও দুধের বাঁটে বসন্তের গুটি দেখা যায়। দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। রক্তের ছিটা ও আমযুক্ত পাতলা পায়খানা হয়।

চিকিৎসাঃ ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ- এ রোগের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। লক্ষণ দেখে অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামিনিক, ব্যথানাশক ইনজেকশন দিলে আক্রান্ত ভেড়ার মৃত্যুর হার কমানো যায়।

প্রতিরোধঃ সুস্থ ভেড়াকে আক্রান্ত ভেড়া থেকে দ্রুত আলাদা করতে হবে। নিয়মিত টিকা দিতে হবে। 

টীকা সম্পর্কিত তথ্যঃ

মাষ্টার সীড : লোকার ষ্ট্রেইন অরিজিনঃ বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাভার, ঢাকা।

ব্যবহার বিধি : প্রতি ভায়াল টিকা ১০০ এম এল ডাইল্যুয়েন্টের সাথে গুলানোর পর প্রতি পশুকে ১ এম এল করে চামড়ার নীচে প্রয়োগ করতে হয়।

সরবরাহ : প্রতি ভায়ালে ১০০ মাত্রা টিকা + ১০০ এম এল ডাইল্যুয়েন্ট মূল্য : 

প্রতি ভায়াল ৫৫ টাকা।

ক্ষুরা রোগঃ

 একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এ রোগকে গ্রামে ক্ষুরাচল বা বাতনা বলে থাকে। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি দ্বিক্ষুর বিশিষ্ট প্রাণী এ রোগে আক্রান্ত হয়। জ্বর, মুখে ও পায়ে ফোসকাসহ ঘা এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এ রোগে আক্রান্ত বয়স্ক পশুকে মৃত্যুর হার কম হলেও মহামারী এলাকায় আক্রান্ত বাছুরের মৃত্যুর হার অত্যাধিক।

ভাইরাস ঘটিত এ রোগে বয়স্ক ভেড়ার চেয়ে বাচ্চা ভেড়া বেশি মারা যেতে পারে।

 লক্ষণঃ আক্রান্ত ভেড়াকে প্রথমে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়; তীব্র জ্বর হয় ও মুখ দিয়ে লালা ঝরে মুখে, পায়ে ও দুই ক্ষুরের মাঝে ফোস্কা দেখা যায় এবং ফোস্কা গলে লাল বর্ণের ঘা হয়; পায়ের ক্ষতে মাছি পড়ে।     

চিকিৎসাঃ ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ- ফিটকিরি বা পটাশের পানি দিয়ে আক্রান্ত ভেড়ার মুখ ও পায়ের ঘা ধুয়ে দিতে হবে। তারপর লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা করাতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিসটামিনিক ও ব্যথানাশক ওষুধে আক্রান্ত ভেড়া সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিরোধঃ আক্রান্ত ভেড়া থেকে সুস্থ ভেড়াকে আলাদা করতে হবে। সুস্থ অবস্থায় ভেড়াকে নিয়মিত টিকা প্রদান করতে হবে।

টীকা সম্পর্কিত তথ্যঃ

মাস্টার সীড (ক) বাইভ্যালেন্ট টিকা: A এবং O সিরোটাইপ।        

অরিজিন: প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ), মহাখালী, ঢাকা।

 (খ) ট্রাইভ্যালেন্ট টিকা: A, O এবং Asia-1 সিরোটাইপ।        

অরিজিন: প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ), কুমিল্লা।

ব্যবহার বিধি: প্রয়োজন পদ্ধতি ও মাত্রা :টিকার নামগবাদিপশুছাগল/ভেড়াপ্রয়োগের স্থানবাইভ্যালেন্ট৬ এম এল২ এম এলচামড়ার নীচেট্রাইভ্যালেন্ট৬ এম এল২ এম এলচামড়ার নীচে এ টিকা ৪ মাস পর পর প্রয়োগ করতে হয়। তবে প্রথম ডোজের ২১ দিন পর বুষ্টার ডোজ প্রয়োগ করলে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

সতর্কতাঃ এ টিকার শূন্য ডিগ্রি সেঃ বা তার নীচের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে না। চার মাস বয়সের নীচের পশুকে এ টিকা দেওয়া যাবে না। গর্ভবতী গাভীকে এ টিকা সর্তকতার সাথে প্রয়োগ করতে হবে।

সরবরাহঃ

 (ক) বাইভ্যালেন্ট টিকা: প্রতি ভায়ালে গরু/মহিষের জন্য ১৬ মাত্রা টিকা এবং ছাগল/ভেড়ার জন্য ৪৮ মাত্রা টিকা।

 (খ) ট্রাইভ্যালেন্ট টিকা: প্রতি ভায়ালে গরু/মহিষের জন্য ১৬ মাত্রা টিকা এবং ছাগল/ভেড়ার জন্য ৪৮ মাত্রা টিকা।

মূল্য : (ক) বাইভ্যালেন্ট টিকাঃ প্রতি ভায়াল ৯৬.০০ টাকা।

(খ) ট্রাইভ্যালেন্ট টিকা : প্রতি ভায়াল ১৬০.০০ টাকা।

তড়কা

Bacillus anthracis নামক ব্যাকটেরিয়া জনিত অতি তীব্র ও মারাত্মক ধরনের রোগ। সাধারণত: খাবারের সাথে এ রোগের জীবাণু দেহে প্রবেশ করে থাকে। এ রোগের জীবাণু মাটিতে বহু বছর বেঁচে থাকে। বিশ্বের সকল দেশের গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীরও এ রোগ হতে দেখা যায়। সাধারণত: বর্ষাকালে প্রথমদিকে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। আক্রান্ত প্রাণীর আকস্মিক মৃত্যু, উচ্চ তাপমাত্রা (১০০ ডিগ্রি ফাঃ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফাঃ), মৃত্যুর পর নাক-মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে কালচে রং এর রক্ত বের হয়ে আসা এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

মাষ্টার সীডঃ এফ-২৪ ষ্ট্রেইন।

 অরিজিন: অষ্ট্রেলিয়া।

ব্যবহার বিধিঃ গরু, মহিষ ও ঘোড়ায় ১ এম এল মাত্রায় ও ছাগল ভেড়ার ০.৫ এম এল মাত্রায় ঘাড়ের চামড়ার নীচে টিকা প্রদান করতে হয়। দুই বা তদুর্ধ বয়সের গরু মহিষকে এই টিকা প্রদান করা হয়। যে সমস্ত এলাকায় Anthrax রোগ হওয়ার ইতিহাস রয়েছে অর্থ্যাৎ Enzootic area – তে বছরে ১ বার এই টিকা প্রয়োগ করতে হয়। সাধারণঃ এই টিকা প্রয়োগের ১ থেকে ২ সপ্তাহ সময়ের মধ্যেই প্রাণীর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। টিকা দেওয়া হলে টিকা প্রদানের স্থান ফুলে যেতে পারে এবং টিকা প্রদানের স্থানে জ্বালা পোড়া হতে পারে। সাধারণ: এই রোগের প্রাদুর্ভাব এলাকায় ছাগল/ভেড়ায় টিকা প্রয়োগ করা হয়। ছাগলে এই টিকা প্রদানের প্রক্রিয়ায় মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাগল টিকা দেওয়ার পর পরই লাফালাফি শরু করে ও ক্ষেত্র বিশেষ মারাও যেতে পারে। টিকার কিছু উপকরণে প্রচন্ড Irritative হওয়ায় এমন ঘটে। ছাগল-ভেড়ায় খুব সাবধানে এই টিকা ব্যবহার করতে হয়। দুগ্ধবতী গাভীকে এই টিকা প্রদান করলে দু’এক দিনের জন্য দুধের উৎপাদন কমে যায়। অবশ্য পরে আস্তে আস্তে উৎপাদন স্বাভাবিক হয়ে আসে। ৬ মাসের উর্দ্ধে গর্ভবতী গাভীকে এই টিকা প্রয়োগে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বিধায় উক্ত সময় টিকা প্রদান না করাই উত্তম।

সরবরাহ : প্রতি ভায়ালে গরু, মহিষ, ঘোড়ার জন্য ১০০ মাত্রা টিকা এবং ছাগল/ভেড়ার জন্য ২০০ মাত্রা টিকা। মূল্য : প্রতি ভায়াল : ৫০ টাকা।

ফ্যাসিওলিয়াসিসঃ

আমাদের দেশে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া কলিজা কৃমিতে আক্রান্ত হয়। এ রোগকে ফ্যাসিওলিয়াসিস বলে। ঘাসের মাধ্যমে এ কৃমি পশুর শরীরে ঢোকে।

লক্ষণঃ  তীব্র প্রকৃতির কলিজা কৃমিতে কলিজায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এতে ভেড়া উঠা-বসা বা ছটফট করে এবং হঠাৎ মারা যায়। দীর্ঘস্থায়ী লক্ষণঃ ভেড়া দিন দিন শুকিয়ে যাবে। খাদ্যে অরুচি দেখা যায় ও ভেড়া ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে পাতলা বা শক্ত পায়খানা করতে দেখা যায়। ভেড়ার পেট বড় হয়ে যায়। রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। চোয়ালের নিচে থলের মতো তরল পদার্থ জমে থাকে; এটা বটল জ’ নামে পরিচিত রোগ নির্ণয় রোগের ইতিহাস ও লক্ষণ দেখে (বিশেষ করে ডায়রিয়া, বটল জ’ দেখে) প্রাথমিকভাবে এ রোগ হয়েছে বলে ধারণা করা যায়।

চিকিৎসাঃ ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ- ফেসিনেক্স/ফেসিনিল /ফ্লুকেনিল, যেকোনো একটি ট্যাবলেট ৭০-৮০ কে.জি ওজনের জন্য খাওয়াতে হবে।

গোল কৃমিঃ

হিমোনকাস কনটরটাস নামক গোলকৃমির আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে। এ কৃমি ভেড়ার অন্ত্রে রক্ত ও পুষ্টি শোষণ করে ভেড়াকে দুর্বল করে দেয়। এতে ভেড়া মারাও যেতে পারে।

লক্ষণঃ  এ কৃমি ভেড়ার খাদ্য হজম ও শোষণে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। খাদ্যে অরুচি, রক্তশূন্যতা, দুর্বলতা ও শরীরের ওজন হ্রাস পাওয়া। চোয়ালের নিচে পানি জমা ইত্যাদি লক্ষণগুলো দেখা দেয়।

চিকিৎসাঃ ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ- আক্রান্ত ভেড়াকে এনডেক্স/ রেনাডেক্স ১৫০০ মি.গ্রা (৭০ কে.জির জন্য একটি ট্যাবলেট হিসেবে) খাওয়াতে হবে।

প্রতিরোধঃ ভেড়াকে বছরে অন্তত দু’বার (বর্ষার শুরুতে এবং বর্ষার শেষে) কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে এবং আক্রান্ত ভেড়ার চিকিৎসাকরতে হবে।

উকুন, আটালি মাইটঃ

লক্ষণঃ  ভেড়ার লোম উস্কখুস্ক হয়ে যায়; অনেক সময় লোম ঝরে যায়। ভেড়ার দেহে চুলকানি হয় এবং শক্ত বস্ত্তর সঙ্গে শরীর ঘষার ফলে অনেক সময় পশমসহ চামড়া উঠে যায়। আক্রান্ত ভেড়া অস্বস্তি বোধ করে। ভেড়ার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। ভেড়ার খাদ্য গ্রহণ কমে যায়। 

রোগ নির্ণয়ঃ ভেড়ার ত্বকে ও লোমে উকুন, উকুনের ডিম, আটালি ও মাইট দেখে রোগ নির্নয় করা যায়।

 চিকিৎসাঃ ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ- ভারমিক্স ইনজেকশন ৫ মি.লি, ০.৫ মি.লি/২০-২৫ কে.জি দৈহিক ওজনের জন্য ত্বকে প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি অ্যান্টিহিস্টামিনিক ইনকেজশন যেমন- হিস্টাভেট/হিস্টাসিনভেট ১০ মি.লি (১ মি.লি. প্রতি ১৫কে.জি দৈহিক ওজনের জন্য) ৩-৫ দিন মাংসে প্রয়োগ করলে ভালো কাজ করে।

পেট ফাঁপাঃ

ভেড়াসহ অন্যান্য জাবর কাটা প্রাণীর (গরু, মহিষ, ছাগল ইত্যাদি) পাকস্থলীর প্রথম দুই অংশে পচা গ্যাসযুক্ত ফেনা জমে পেট ফেঁপে যায় যা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দূর হয় না। অতিরিক্ত গ্যাস জমে পেট ফাঁপা বা টিম্পানি রোগ সৃষ্টি হয়। ভেড়াকে শুধুমাত্র লেগুমিনাস (শিমজাতীয় উদ্ভিদ) বা সবুজ লতা বা দানাদার খাদ্য অধিক খাওয়ালে এ রোগ হয়।

লক্ষণঃ  ভেড়ার বাম পাশের পেট হঠাৎ করে ফুলে যায়। আক্রান্ত ভেড়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। জাবর কাটা বন্ধ করে মাড়ি আটকে থাকে। শ্বাসকষ্ট হয়। প্রস্রাব-পায়খানা বন্ধ করে দেয়। ভেড়া অবশেষে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায়।

রোগ নির্ণয়ঃ খাদ্যের ইতিহাস জেনে।

বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ দেখে চিকিৎসাঃ ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শে নিন্মলিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা যেতে পারেঃ- ট্রকার ও ক্যানুলা বা মোটা ইনজেকশনের সুঁই দিয়ে বাম পাশের ত্রিকোনাকার গর্তের ফাঁপা অংশে ছিদ্র করে গ্যাসবের করতে হবে। অ্যান্টিজাইমোটিক মিকচার (যেমন- জাইমোভেট/ডিজিভেট) এক প্যাকেট পানিতে গুলিয়ে সরাসরি পাকস্থলীতে ইনজেকশন দিয়ে ভালো ফল পাওয়া

তথ্যসূত্রঃ লাইভস্টক ডায়েরি

Facebook Comments
Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *