হাইব্রিড সোনালি মুরগি ও ক্ল্যাসিক সোনালি মুরগি বিস্তারিত জানুন

দেশি মুরগি পালন প্রাণিসম্পদ মুরগি পালন সোনালি মুরগি পালন

হাইব্রিড সোনালি মুরগি এবং ক্ল্যাসিক সোনালি মুরগি পালন কি? কেন? কিভাবে?

বর্তমান সময়ে ফার্মিং সেক্টরে আলোচিত শব্দ হাইব্রিড সোনালি মুরগি। প্রিয় পাঠক, আজ আপনাদের সামন তুলে ধরব – ক্ল্যাসিক সোনালি মুরগি এবং হাইব্রিড সোনালি মুরগি কি? এদের মধ্য পার্থক্য কি? কিভাবে এলো এই হাইব্রীড সোনালি মুরগি। এছাড়াও জানাব কোন সোনালি মুরগি পালন এ লাভ?

ক্ল্যাসিক সোনালি মুরগি

সর্বপ্রথম ১৯৮৫-৮৭ সালের দিকে বাংলাদেশের ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত। “কেন্দ্রীয় মুরগি খামার, মিরপুর, ঢাকা” এ এই সোনালি মুরগির জাত উন্নয়ন করা হয়।

উন্নতজাতের মাংশ উৎপাদনকারী রোড আইল্যান্ড রেড (আর আই আর) জাতের মোরগ। এবং ডিম উৎপাদনকারী জাতের মিশরীয় ব্রীড ফাউমি মুরগির মধ্যে সংকরায়ন বা ক্রস করে অপেক্ষাকৃত বেশি মাংশ। এবং ডিম উৎপাদনক্ষম দেশি মুরগির মত দেখতে একটি মুরগির জাত উন্নয়ন করা হয়। মুলত এটিই বর্তমান সোনালি মুরগি।

<<<সোনালি মুরগি পালনের বিস্তারিত তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন>>>

সাধারণত সোনালি মুরগি ৮ সপ্তাহে বা ৬০ দিনে ৮০০ গ্রামের বেশি ওজন হওয়ার পথে এগিয়েছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এবং সাধারণ খামারি ও ব্রিডারদের যথাযথ ব্রিডিং পলিসি না মানার কারণে। বর্তমানে সোনালি মুরগিতে আগের মত ওজন আসে না। কারন, খামারিরা এবং । লোকাল ব্রিডাররা একবার সোনালির বাচ্চা নিয়ে সেগুলো বড় করে। আবার সেই ব্যাচের মুরগিদের মধ্যে ব্রিডিং করিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করছে। এটাকে বলা হয় ইনব্রিডিং বা আন্তঃপ্রজনন। এই ইনব্রিডিং এর কারণে এখন আর সোনালি মুরগিতে আগের মত বেশি ওজন আসে না।

সোনালি মুরগি পালন
সোনালি মুরগি পালন

ইনব্রিডিং এর ফলে সোনালি মুরগিতে বেড়েছে বাচ্চা মৃত্যুর হার। কমেছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, উৎপাদিত হচ্ছে নিম্নমানের বাচ্চা। ইনব্রিডিং ডিপ্রেশনের কারণে কমছে উৎপাদন ক্ষমতা।

যখন দেখা গেল যে সোনালি মুরগি ওজন বাড়ছে না। ঠিক তখনই কিছু কিছু খামারি ও ব্রিডার আবারো অপরিকল্পিতভাবে। সোনালি মুরগির সাথে অন্যান্য উন্নতজাতের মুরগির সাথে সংকরায়ন বা ক্রসিং বা ব্রিডিং করানো শুরু করল। এই কারণে যে যেহেতু সোনালি মুরগির ওজন কম আসছে। এবং উন্নতজাতের অধিক মাংশ উৎপাদনশীল কোনো জাতের সাথে সোনালির ক্রসিং করালে সোনালির ওজন বাড়বে।

ঠিক এভাবেই সৃষ্টি হল বর্তমান সময়ের আলোচিত হাইব্রিড সোনালি মুরগি।

হাইব্রিড সোনালি মুরগি

বর্তমানে কিছু ব্রিডার ও খামারি সোনালি মুরগির সাথে। অধিক মাংশ উৎপাদনশীল জাতের স্যাসো মুরগি, টাইগার মুরগি, সিপিএফ ৩ জাতের মুরগের সাথে সংকরায়ন বা ক্রসিং বা ব্রিডিং করিয়ে যে বাচ্চা উৎপাদন করছে সেটাই হচ্ছে হাইব্রিড সোনালি মুরগি।

মূলত হাইব্রীড সোনালি মুরগি এবং নরমাল সোনালি মুরগি বাইরে থেকে দেখতে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। পার্থক্য শুধু ওজনে।

নরমাল ক্ল্যাসিক সোনালি মুরগির ১ দিনের বাচ্চার ওজন ২৫-৩০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর হাইব্রিড সোনালি মুরগির বাচ্চার ওজন। নরমাল বা ক্ল্যাসিক সোনালির বাচ্চার থেকে ৫-৬ গ্রাম ওজন বেশি হয়ে থাকে।

আর এদিকে ৬০ দিনে নরলাম বা ক্ল্যাসিক মুরগির ওজন আসে প্রায় ৭০০-৭৫০ গ্রাম। অন্য দিকে হাইব্রীড সোনালি মুরগির ওজন। একই সময়ে প্রায় ৯০০ গ্রামের বেশি হয়ে থাকে।

হাইব্রিড নাকি ক্ল্যাসিক সোনালি? কোনটা পালনে লাভ বেশি?

মুলত ম্যানেজমেন্ট আর ভাগ্য দুইটাই ভাল থাকলে। দুইটাতেই লাভ আছে। আর ম্যানেজমেন্ট ও ভাগ্য কোনো টা ভাল না হলে, দুই ধরনের সোনালি মুরগি পালনে লস হতে পারে।

তবে, যেহেতু হাইব্রিড সোনালি মুরগিতে ওজন অল্প সময়ে বেশি আসে। তাই হাইব্রিড সোনালি করলেই ভাল হবে। কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে যে । হাইব্রিড সোনালি মুরগির বাচ্চার দাম সাধারণত ৪-৫ টাকা বেশী হয়ে থাকে।

তবে চিন্তার বিষয় এই হাইব্রিড সোনালি ও আবার একই ভাবে ক্ল্যাসিক সোনালি মুরগির। মত ইনব্রিডিং হতে হতে হাইব্রিডের উৎপাদনশীলতা ও হয়তো একদিন কমে যাবে। আর সেই সাথে পৃথিবী থেকে ও এই সোনালি মুরগির জাত টা হারিয়ে যাবে।

সোনালি মুরগি পালন সম্পর্কে আরো জানতে নিচের ইউটিউব চ্যানেল টি সাবস্ক্রাইব করুনঃ

<<<সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন>>>

Tagged

1 thought on “হাইব্রিড সোনালি মুরগি ও ক্ল্যাসিক সোনালি মুরগি বিস্তারিত জানুন

  1. আমি ফাউমির মুরগ আর সোনালী হাইব্রীড মুরগী দিয়ে ইনব্রিডিং করাতে চাই এটা কেমন হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *